ভাটপাড়া ও হালিশহরে ধাক্কার পর কালীঘাটে মমতার কড়া বার্তা, কোনো অবস্থাতেই পদত্যাগ নয়

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পুরসভায় একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হালিশহর, ভাটপাড়া ও গারুলিয়ার মতো পুরসভাগুলিতে তৃণমূলের বোর্ড এখন খাদের কিনারায়। এই পরিস্থিতিতে দলের ভাঙন রুখতে এবং কলকাতা পুরসভার মতো শক্ত ঘাঁটি বাঁচাতে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে কলকাতা পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন তিনি। সেখানে কাউন্সিলরদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পুরসভার মেয়াদ রয়েছে, তাই কোনো অবস্থাতেই কেউ পদত্যাগ করবেন না এবং মাটি আঁকড়ে থেকে জনগণকে পরিষেবা দিয়ে যাবেন।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও নেত্রীর পালটা রণকৌশল
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দলের এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পুরসভাগুলিতেও। একের পর এক কাউন্সিলরের ইস্তফার কারণে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে শাসকদল ব্যাকফুটে চলে গেছে। এই ধাক্কা যাতে কলকাতা পুরসভায় না লাগে, সেই লক্ষ্যে শুক্রবারের বৈঠকে কাউন্সিলরদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন দলনেত্রী। কলকাতা পুরসভার ১৩৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে ১০০ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, কাউন্সিলররা পদ ছাড়লেই বিরোধী শিবির সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাই ভয় না পেয়ে পথে নেমে প্রতিবাদ করতে হবে। বিশেষ করে সম্প্রতি পুর অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকায় ক্লাব ঘরে অধিবেশন করতে হওয়ার ঘটনাকে ‘বিজেপির গা-জোয়ারি’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে তীব্র প্রতিবাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সাথে ভবানীপুরের ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগের পর, শূন্য পদে দ্রুত নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কাউন্সিলর সন্দীপরঞ্জন বক্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির একটি অংশ ভাঙার নোটিস জারির প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুরসভার নির্দিষ্ট নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে স্রেফ ক্ষমতার জোরে যখন-তখন বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই ধরণের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুরসভাগুলিতে ভাঙনের পর কলকাতা পুরসভাকে ধরে রাখাই এখন তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তৃণমূলনেত্রীর এই কড়া বার্তা এবং মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দলের কাউন্সিলরদের দলবদল রুখতে এবং পুর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে কতটা কাজ দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে রাজ্যের পুর প্রশাসন ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ।