সরাসরি সুজিত বসুর ঘাঁটিতেই পুলিশের বড় থাবা, এবার গ্রেফতার প্রভাবশালী কাউন্সিলর টিঙ্কু বর্মা!

রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতি, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে শাসকদলের প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের শ্রীঘরে যাওয়ার তালিকাটা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টিঙ্কু বর্মার নাম। শুক্রবার রাতে লেকটাউন থানার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর ও দমদম সংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনকয়েক আগেই দক্ষিণ দমদমের এই দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে লেকটাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই অত্যন্ত গোপনে তদন্ত চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে শুক্রবার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই টিঙ্কু বর্মাকে গ্রেফতার করা হয়। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বিধাননগরের রাজনীতিতে টিঙ্কু বর্মা চিরকালই সুজিত বসুর অন্ধ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর এলাকায় যে মারাত্মক ভোট-পরবর্তী হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তার পেছনেও এই টিঙ্কুর সরাসরি হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুজিত-বৃত্তে একের পর এক পতন
সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে পুলিশের এই হানা কিন্তু প্রথম নয়। গত কয়েকদিন ধরেই বিধাননগর ও লেকটাউন চত্বরে রীতিমতো চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মাত্র দিন দুয়েক আগেই পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হন সুজিত-ঘনিষ্ঠ বিধাননগর পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ৫ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান রঞ্জন পোদ্দার। সল্টলেক-করুণাময়ী রুটের একাধিক বাসমালিক এবং পরিবহন কর্মীদের ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল রঞ্জনের বিরুদ্ধে। তার ঠিক আগেই তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে বিধাননগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাইপ্রোফাইল তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে।
তদন্তের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়ম, জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা তোলাবাজি এবং অতীতে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হিংসার মামলার সূত্র ধরেই পুলিশ এই সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। একের পর এক শীর্ষ স্তরের অনুগামীদের এই পতন স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণকে বড়সড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিধাননগর ও দমদম পুর এলাকায় দলীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার প্রতি আস্থা ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। সুজিত বসুর ডানহাত ও বাঁহাত হিসেবে পরিচিত এই কাউন্সিলরদের একের পর এক গ্রেফতারি আগামী দিনে ওই অঞ্চলের দলীয় সংগঠনে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।