রেকর্ড লভ্যাংশে সরকারের পকেট ভরাচ্ছে আরবিআই, দেশের অর্থনীতিতে কি স্বস্তি ফিরবে?

বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের জন্য কেন্দ্র সরকারকে রেকর্ড ২.৮৭ লাখ কোটি টাকা (প্রকৃত পরিমাণ ২,৮৬,৫৮৮.৪৬ কোটি টাকা) ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা করেছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। আরবিআই-এর সেন্ট্রাল বোর্ডের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বিপুল অঙ্কের লভ্যাংশ হস্তান্তরের নজির আগে কখনও দেখা যায়নি। পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের ২.৬৯ লাখ কোটি টাকার তুলনায় এবারের প্রাপ্তি প্রায় ২৭.৪ শতাংশ বেশি।
আয়ের উৎস ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিট
সংশোধিত ইকোনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক (ইসিএফ)-এর নিয়ম মেনেই এই উদ্বৃত্ত অর্থ হস্তান্তরের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার বাজারগত অস্থিরতা ও আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত ‘কনটিনজেন্সি রিস্ক বাফার’ (সিআরবি) ফান্ডের পরিমাণ ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ করেছে আরবিআই। এই ফান্ডে এবার ১.০৯ লাখ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিট ২০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৭ লাখ কোটি টাকায়। যদিও আরবিআই-এর মোট আয় ২৬.৪২ শতাংশ বেড়েছে, তবে খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৭.৬০ শতাংশ। মূলত বিদেশি মুদ্রা বাজারে (ফোরেক্স মার্কেট) ডলার বিক্রির লাভজনক হস্তক্ষেপ থেকেই আরবিআই-এর আয়ের এই বড় অংশটি এসেছে।
ঘাটতি পূরণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
চলতি ২০২৬ আর্থিক বছরের বাজেটে কেন্দ্র সরকার আরবিআই এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ বাবদ প্রায় ৩.১৬ লাখ কোটি টাকা প্রাপ্তির অনুমান করেছিল। শীর্ষ ব্যাঙ্কের দেওয়া এই রেকর্ড লভ্যাংশও সরকারের সেই অনুমানের চেয়ে সামান্য কম। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম এই লভ্যাংশ বন্ড মার্কেটে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে সরকারের রাজকোষীয় ঘাটতি (ফিসকাল ডেফিসিট) সামলানোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। চলতি অর্থবর্ষে জিডিপির ৪.৩ শতাংশ রাজকোষীয় ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি বেড়ে ৪.৭ শতাংশ বা ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
তবে মধ্য-প্রাচ্যের যুদ্ধকালীন সংকট এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যে চাপ রয়েছে, তার মাঝে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের ভর্তুকি ও জনকল্যাণমুখী সরকারি ব্যয় পরিচালনায় মস্ত বড় হাতিয়ার হবে। কিছু বিশেষজ্ঞ এই বড় হস্তান্তরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও, অন্য শিবিরের মতে এতে আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় থাকবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, সমস্ত রকম আর্থিক ঝুঁকি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।