থানায় জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই নিজের গলায় ব্লেড চালাল মাদকাসক্ত যুবক, শিলিগুড়িতে চরম উত্তেজনা!

শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানায় পুলিশের নজর এড়িয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা ওই যুবক আচমকাই নিজের গলায় ধারালো ব্লেড চালিয়ে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনা শহরের মাদক সমস্যা এবং অপরাধীদের মানসিক বিকৃতির এক ভয়াবহ চিত্রকে পুনরায় সামনে এনে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত এবং তার বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয় এবং কোনো বড় অপরাধের প্রমাণ না মিললে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল পুলিশের। কিন্তু দুপুর নাগাদ হঠাৎ করেই থানার ভেতরে শোরগোল পড়ে যায়। যুবকের গলা থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখে পুলিশকর্মীরা দ্রুত ব্যান্ডেজ বেঁধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানিয়েছেন, যুবকটি বর্তমানে পুলিশের কড়া তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাদকাসক্তি ও টাস্ক ফোর্সের তৎপরতা
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং মাদকাসক্তদের হিংসাত্মক আচরণ সামাল দিতে পুলিশকে দীর্ঘদিন ধরেই বেগ পেতে হচ্ছিল। এই সমস্যা মোকাবিলায় চলতি মাসের ১৩ তারিখ একটি বিশেষ ‘অ্যান্টি নারকোটিক টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়। টাস্ক ফোর্স গঠনের পর থেকে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করা হয়েছে।
সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার পেছনে মাদক না পাওয়ার তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা (উইথড্রয়াল সিম্পটম) কাজ করে থাকতে পারে। মাদকাসক্ত অপরাধীরা নেশার সামগ্রী না পেয়ে অনেক সময় চরম অবসাদগ্রস্ত বা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে, যা তাদের আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করে। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি থানার ভেতরে বন্দি বা অভিযুক্তদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই মাদকাসক্ত অপরাধীদের সামলানোর ক্ষেত্রে পুলিশের মনস্তাত্ত্বিক ও পরিকাঠামোমূলক চ্যালেঞ্জকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।