রাজ্যসভার টিকিট বিক্রির বিস্ফোরক অভিযোগে আম আদমি পার্টিকে নজিরবিহীন তোপ হরভজন সিংয়ের

রাজ্যসভার টিকিট বিক্রির বিস্ফোরক অভিযোগে আম আদমি পার্টিকে নজিরবিহীন তোপ হরভজন সিংয়ের

আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এবার নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে রাজ্যসভার আসন ‘বিক্রি’ করার এক মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরব হলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বর্তমান রাজ্যসভা সাংসদ হরভজন সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেছেন, পাঞ্জাবের রাজ্যসভার টিকিট টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল এবং এর পেছনে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। সময় এলে কাকে, কত টাকা এবং কার তরফে এই প্রণামী দেওয়া হয়েছিল, তার সমস্ত তথ্য তিনি জনসমক্ষে আনবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রিকেট মাঠের এই প্রাক্তন তারকা।

যদিও হরভজন সিং তাঁর পোস্টে সরাসরি আম আদমি পার্টির নাম নেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর এই নিশানা স্পষ্টতই ‘আপ’-এর দিকে। ২০২২ সালে আম আদমি পার্টির টিকিটে পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় যাওয়া এই ক্রিকেটার চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাঘব চাড্ডা ও স্বাতী মালিওয়াল সহ আরও ৬ জন সাংসদের সাথে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলবদলের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। সম্প্রতি তাঁর বাড়ির সামনে কুশপুতুল দাহ এবং দেওয়ালে ‘গদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক লিখে দেওয়ার ঘটনার জবাবেই এই পাল্টা তোপ দাগেন তিনি।

পাঞ্জাবকে লুটের অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংঘাত

হরভজন সিংয়ের অভিযোগ, যোগ্যতা উপেক্ষা করে পাঞ্জাবে অনেককে পদ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দলের কিছু মানুষ কেবল নির্দিষ্ট প্রভাবশালী পক্ষকে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত। এই রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব সরকার হরভজন সিংয়ের সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং তাঁর বাড়ির বাইরে থেকে পুলিশ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তাঁর সুরক্ষায় সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

হরভজন সিংয়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য পাঞ্জাব তথা জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির দাবি করা আম আদমি পার্টির জন্য এই টিকিট বিক্রির অভিযোগ বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, হরভজন সিং যেভাবে আগামী দিনে আরও তথ্য ফাঁসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাতে পাঞ্জাবের শাসক শিবিরের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সংঘাতের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *