ইরান বা আমেরিকা নয়, ভারতের জ্বালানির ঘাটতি মেটাচ্ছে ভেনেজুয়েলা!

ইরান বা আমেরিকা নয়, ভারতের জ্বালানির ঘাটতি মেটাচ্ছে ভেনেজুয়েলা!

বিশ্বব্যাপী তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড়সড় ওলটপালট শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে যখন ভারতের প্রথাগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত, ঠিক তখনই ভারতের তেল আমদানির প্রধান উৎস হিসেবে নাটকীয় উত্থান ঘটেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার। ইরান বা আমেরিকার মতো পরাশক্তিদের পিছনে ফেলে চলতি মে মাসে ভেনেজুয়েলা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

জ্বালানি পণ্য ট্র্যাকার ‘কেপলার’ (Kpler)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ভেনেজুয়েলা ভারতকে প্রতিদিন প্রায় ৪,১৭,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেছে। অথচ এপ্রিল মাসে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ২,৮৩,০০০ ব্যারেল। এর আগের টানা নয় মাস ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের তেল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বর্তমানে কেবল রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) তেল সরবরাহের দিক থেকে ভেনেজুয়েলার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

সস্তা তেল ও উন্নত শোধন পরিকাঠামো

ভারতে ভেনেজুয়েলার ক্রুড তেলের চাহিদা আকাশছোঁয়া হওয়ার মূল কারণ এর সাশ্রয়ী মূল্য। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির কাছে ভেনেজুয়েলার সস্তা তেল অত্যন্ত লাভজনক ও নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি এই সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার তেল মূলত ভারী ও উচ্চ সালফারযুক্ত হওয়ায় সাধারণ শোধনাগারে তা প্রক্রিয়াজাত করা কঠিন। তবে গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্সের অত্যাধুনিক ও উন্নত শোধন পরিকাঠামো এই ভারী তেল পরিশোধন করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় ভারতের আমদানি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।

সরবরাহ সংকট ও কৌশলগত পরিবর্তন

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলি থেকে ভারতের তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারত তার একক নির্ভরতা কাটিয়ে আমদানির উৎসে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। যদিও মে মাসে ভারতের সামগ্রিক অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, তবে তা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের (ফেব্রুয়ারি মাসের দৈনিক ৫.২ মিলিয়ন ব্যারেল) চেয়ে এখনও বেশ কম। এই ঘাটতি পূরণে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভেনেজুয়েলার তেল আগামী দিনে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *