১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাংলায় কি এবার বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার!

১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, বাংলায় কি এবার বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার!

দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের কোনো মার্কিন বিদেশসচিবের পা পড়ল কলকাতার মাটিতে। ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিনটনের সফরের পর, এবার সস্ত্রীক কলকাতায় এলেন বর্তমান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি তালতলার মাদার হাউজ ও চিলড্রেনস হোম ঘুরে দেখেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। কলকাতা সফর শেষ করে আজ দুপুরেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত ও রাজনৈতিক পালাবদল

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকেও তিনি রাজ্যে নতুন শিল্পবার্তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিবের কলকাতা সফর বাংলার অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে যেভাবে বিদেশি বিনিয়োগ টানার পক্ষে সওয়াল করছেন, তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাংলাতেও এবার বড়সড় মার্কিন বিনিয়োগ আসতে পারে বলে মনে করছে বাণিজ্যিক মহল।

কূটনৈতিক বার্তা ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব

মার্কো রুবিওর এই ভারত সফরের পেছনে কেবল বাণিজ্য নয়, রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর জানিয়েছেন, এই সফরে বাণিজ্য ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা এবং কোয়াড (QUAD) জোটের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রতিবেশী বাংলাদেশের লালমণিরহাট বিমান ঘাঁটিতে চিনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ ও উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যে চাপানউতোর চলছে, এই সফর তার একটি পরোক্ষ জবাব হতে পারে। ভারতকে পাশে নিয়ে এশিয়ায় চিনের একাধিপত্য রুখতে এবং বেজিংকে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিতেই মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফর অত্যন্ত নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *