স্বামীর অসুস্থতা নাকি ট্রাম্পের রক্তচক্ষু, কেন সরলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড!

স্বামীর অসুস্থতা নাকি ট্রাম্পের রক্তচক্ষু, কেন সরলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড!

মার্কিন রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধামাকা। আগামী ৩০ জুন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তাঁর স্বামীর হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য পাশে থাকার যুক্তি দিলেও, এই আকস্মিক বিদায়ের নেপথ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর তৈরি হওয়া তীব্র দূরত্বকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষপদে বসার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় গ্যাবার্ডের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ইস্তফার নেপথ্য রসায়ন ও ট্রাম্পের অবস্থান

নির্বাচনি প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তুলসি গ্যাবার্ড। সেই ‘পুরস্কার’ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছিল তাঁকে। তবে অতি দ্রুতই এই সম্পর্কে ফাটল ধরে। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রগুলো থেকে তুলসিকে সম্পূর্ণ আড়ালে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান সম্পর্কে জানতে তাঁর নিজস্ব সূত্র রয়েছে এবং তিনি গোয়েন্দা রিপোর্টের তোয়াক্কা করেন না। ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য অবহেলা ও ‘নারীবিদ্বেষী’ মনোভাবই তুলসিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তুলসি গ্যাবার্ডের এই বিদায়ের পর মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাবেন মুখ্য সহকারী কর্তা অ্যারন লিকাস। বাইরে ট্রাম্প তুলসির প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিলেও, প্রশাসনের অন্দরের এই কোন্দল মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ভেনেজুয়েলা সংকটের মাঝে গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগ আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে ওয়াশিংটনকে কিছুটা চাপে ফেলবে। ট্রাম্প ক্যাবিনেটের একের পর এক শীর্ষ নারী সদস্যের বিদায় এবং গোয়েন্দা সংস্থার ওপর প্রেসিডেন্টের নিজস্ব একাধিপত্য কায়েমের চেষ্টা মার্কিন প্রশাসনিক কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *