সন্দীপ বিদায় নিতেই বদলে গেল ভাগ্য! কোন ম্যাচের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গন্ধ পেয়েছিলেন অস্কার?

লাল-হলুদ ড্রেসিংরুমের অন্দরের ‘অশান্তি’ দূর হওয়াই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি ছিল! দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চ্যাম্পিয়ন করার পর এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন ক্লাবের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজো। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে নেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের মাঝে গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীর বিদায় নেওয়াই ছিল লাল-হলুদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।
কোচের এই চাঞ্চল্যকর দাবি ভারতীয় ফুটবল মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ থেকেও একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তা পাচ্ছেন অস্কার। তবে সাফল্যের এই আনন্দের মাঝেই বিদায়ের সুর শুনিয়ে রেখেছেন তিনি, যা ক্লাব ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সন্দীপের বিদায় ও সাজঘরের ঐক্য
আইএসএল অভিযান চলাকালীন গোয়া বিমানবন্দরে গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে অস্কার ব্রুজোর হাতাহাতির খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে এতদিনে নীরবতা ভাঙলেন কোচ। অস্কারের অভিযোগ, সন্দীপ দলের ভেতরের গোপন কৌশল ও খবর সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিচ্ছিলেন, যার প্রমাণও কোচের হাতে ছিল। এই নিয়ে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সন্দীপ তাঁকে গোটা দলের সামনে কটূক্তি করেন।
কোচের মতে, সন্দীপের এই আচমকা দলত্যাগ আসলে শাঁখে ফুঁ দিয়ে গিয়েছিল লাল-হলুদ শিবিরে। অবিশ্বাসের আবহ কেটে যেতেই পুরো ড্রেসিংরুম এক সুতোয় বেঁধে যায়। এই সংহতিই চোট-আঘাতে জর্জরিত দলকে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল। মহেশ বা ক্রেস্পোর মতো তারকাদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও শুধুমাত্র ড্রেসিংরুমের একতার জোরেই ট্রফি এসেছে বলে দাবি তাঁর।
ম্যানেজমেন্টের গড়িমসি ও বিদায়ের বার্তা
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ উদযাপনের মাঝেই অস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মুম্বই ম্যাচের আগেই তিনি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে, আগামী মরশুমে তিনি আর থাকছেন না। এই বিষয়ে কোচের ব্যাখ্যা, আগামী মরশুমের পরিকল্পনা নিয়ে ক্লাব বিনিয়োগকারী ইমামি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হচ্ছিল না। ফুটবলাররা যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তখন দলের অধিনায়ক বা ‘ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ’ হিসেবে তিনি কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাননি।
তবে ইস্টবেঙ্গলকে ভালোবেসে ফেলা অস্কার এখনই অন্য ক্লাবের লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন না। ৩১ মে পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
যেভাবে এলো ঐতিহাসিক ট্রফি
কাগজে-কলমে মোহনবাগান বা মুম্বই সিটি এফসি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তারকাসমৃদ্ধ দল হওয়া সত্ত্বেও মাঠের ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে বাজিমাত করেছে ইস্টবেঙ্গল। অস্কার ব্রুজো জানান, বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ড্র এবং মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জয়ের পরেই তিনি এবং তাঁর দল বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে এবার ট্রফি তাঁদের ঘরেই আসছে। মাঠের বাইরের যাবতীয় বিতর্ক সরিয়ে ফুটবলারদের এই লক্ষ্যস্থির মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দিয়েছে।