নিট প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে এবার এনটিএ প্যানেলের বিশেষজ্ঞ, সিবিআই জালে পুণের আরও এক শিক্ষিকা!

নিট প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে এবার এনটিএ প্যানেলের বিশেষজ্ঞ, সিবিআই জালে পুণের আরও এক শিক্ষিকা!

ডাক্তারির সর্বভারতীয় অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সিবিআই। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অন্যতম প্রধান ‘মাথা’ হিসেবে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েছেন মনীষা সঞ্জয় হাভালদার নামে এক শিক্ষিকা। ধৃত মনীষা পুণের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, খোদ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) গঠিত প্রশ্নপত্র তৈরির বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন তিনি। পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে একই প্যানেলের আরও দুই শিক্ষক সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই নিয়ে নিট-কাণ্ডে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

র্ষর্ষক চক্রের শিকড় এনটিএ-র ভেতরেই

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান ছিল, এনটিএ-র ভেতরের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির মদত ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সম্ভব নয়। তদন্ত যত এগিয়েছে, সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির মূল কমিটিতে থাকার সুবাদেই মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের পক্ষে পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া সহজ হয়েছিল। এর আগে পুণেরই অন্য এক শিক্ষক মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে এবং পিভি কুলকার্নি নামের আরও এক বিশেষজ্ঞকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। ঘটনাচক্রে, ধৃত এই তিনজনই নিটের প্রশ্ন তৈরির প্যানেলে ছিলেন। ফলে এনটিএ-র গোটা প্রশ্ন নির্ধারণ কমিটিই এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় চলে এসেছে।

ভবিষ্যতের ওপর বড় ধাক্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট-ইউজি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে হুলস্থুল পড়ে যায়। ২০২৪ সালেও একইভাবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল, যার পুনরাবৃত্তি ঘটল এবারও। পরীক্ষা প্রক্রিয়ার এই চরম অস্বচ্ছতা এবং খোদ প্রশ্ন নির্মাতাদেরই জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের ওপর বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সাথে সর্বভারতীয় স্তরের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা এবং এনটিএ-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরীক্ষার মাত্র নয় দিনের মাথায় পুরো পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *