ভাঁড়ে মা ভবানি! বরানগরের হাল ফেরাতে এবার মন্ত্রীর দ্বারে বিধায়ক সজল

বরানগর পুরসভার হাল ফেরাতে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ বিধায়ক সজলের: থমকে উন্নয়ন, বকেয়া বেতন
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য পৌরসভার মতো চরম আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটের মুখে পড়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বরানগর পৌরসভাও (Baranagar Municipality)। পৌরসভার ভাঁড়ারে কার্যত ‘মা ভবানি’ দশা। তহবিলের তীব্র অভাবের কারণে এলাকার একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পৌরসভার একটা বড় অংশের অস্থায়ী কর্মীরা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে বরানগর পৌরসভার সার্বিক হাল এই মুহূর্তে মোটের ওপর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং পৌরসভার হাল ফেরাতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন বরানগরের নবনিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। পৌরসভার প্রশাসনিক ও আর্থিক সংকট দূর করতে তিনি রাজ্যের নতুন নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
উন্নয়ন স্তব্ধ, সংকটে অস্থায়ী কর্মীরা
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে পুরসভার নিজস্ব আয় যেমন কমেছে, তেমনই বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের জোগানও থমকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুর-পরিষেবার ওপর। রাস্তাঘাট মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পানীয় জলের প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আটকে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পৌরসভার চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীরা। মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে।
উদ্যোগী বিধায়ক সজল ঘোষ
এলাকার বিধায়ক হিসেবে বরানগরের এই বেহাল দশা ও নাগরিক ক্ষোভের বিষয়টি নজর এড়ায়নি সজল ঘোষের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মনে করছেন যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে এই মুহূর্তে বরানগরের সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটাতে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সেই কারণেই তিনি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে বৈঠকের সময় চেয়েছেন। এই বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হতে পারে:
১. জরুরি তহবিল বরাদ্দ: থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত শুরু করার জন্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ বা ফান্ডের দাবি।
২. কর্মীদের বেতন সংকট মেটানো: অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বকেয়া বেতন দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার স্থায়ী সমাধান সূত্র খোঁজা।
৩. নাগরিক পরিষেবা সচল করা: বর্ষা আসার আগে এলাকার নিকাশি নালা পরিষ্কার এবং রাস্তাঘাটের হাল ফেরানোর জন্য জরুরি রূপরেখা তৈরি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বরানগরের এই প্রশাসনিক ও আর্থিক জট ছাড়ানো বিধায়ক সজল ঘোষের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রীর সাথে এই প্রস্তাবিত বৈঠক থেকে বরানগরবাসীর জন্য কোনো ইতিবাচক সমাধান সূত্র বা আর্থিক অনুদান মেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে বরানগর পৌরসভা; তহবিলের অভাবে বন্ধ উন্নয়নমূলক কাজ, বকেয়া অস্থায়ী কর্মীদের বেতন।
- পৌরসভার বেহাল দশা কাটাতে এবং অচলাবস্থা দূর করতে উদ্যোগী হলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
- সংকট সমাধানের ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে খুব শীঘ্রই রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন বিধায়ক।
- বৈঠকে ফান্ডের জোগান নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন দ্রুত মিটিয়ে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।