বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগে ফের অনিয়মের অভিযোগ, সরব বঞ্চিত পদপ্রার্থী

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক নিয়োগে ফের অনিয়মের অভিযোগ, সরব বঞ্চিত পদপ্রার্থী

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ও অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ফের মাথাচাড়া দিল অনিয়মের বিতর্ক। এবার সংগীত ভবনের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসি (UGC) নীতি লঙ্ঘন, চরম অস্বচ্ছতা এবং স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক প্রাক্তন ছাত্র তথা বঞ্চিত পদপ্রার্থী ডঃ কুমুদরঞ্জন পাল এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক এবং ইউজিসি-র কাছে ইমেলে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। একই সাথে নিয়োগের আসল তথ্য জানতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) আবেদনও জমা দিয়েছেন।

ইন্টারভিউ বোর্ড ও ইউজিসি নীতি লঙ্ঘন

অভিযোগকারীর দাবি, বিশ্বভারতীর গত বছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংগীত ভবনে ক্লাসিক্যাল মিউজিক, তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ইন্টারভিউয়ের জন্য গঠিত সিলেকশন কমিটি বা বোর্ড নিয়েই মূল বিতর্ক। ডঃ পালের অভিযোগ, ইউজিসির স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী যে বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে, সেই বিষয়েরই বিশেষজ্ঞদের ইন্টারভিউ বোর্ডে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ না রেখে অন্য শাখার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ১০৪ নম্বর (ইউআর) এবং ১০৯ নম্বর (ওবিসি) পদের জন্য যথাক্রমে ১৫ ও ৬ জন প্রার্থীকে শর্টলিস্টেড করা হলেও এই অস্বচ্ছ মূল্যায়নের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তাঁর দাবি।

তথ্য চেয়ে আরটিআই এবং কর্তৃপক্ষের সাফাই

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে ডঃ কুমুদরঞ্জন পাল আরটিআই-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী, বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সরকারি নীতি, অনুমোদন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং প্রার্থীদের মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ডের খতিয়ান চেয়ে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বভারতীর বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও ভূগোলের মতো একাধিক বিভাগের নিয়োগ নিয়েও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউয়ে না ডাকার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইউজিসির প্রতিটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে কোনো রকম অসঙ্গতি নেই।

এক ঝলকে

  • বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে তবলা ও পাখোয়াজ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে ইউজিসি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ।
  • ইন্টারভিউ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ না রেখে অন্য শাখার বিশেষজ্ঞদের রাখার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রককে চিঠি।
  • যোগ্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আরটিআই (RTI) আবেদন।
  • সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ইউজিসির নিয়ম মেনেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *