নয় শূন্যর পর এবার লক্ষ্য ১৭০, পুরুলিয়ায় বিজেপির ‘থার্ড ইঞ্জিন’ মিশন ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূলকে পরাজিত করে বিপুল জয় হাসিল করেছে বিজেপি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার জঙ্গলমহলের এই জেলায় গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য ‘থার্ড ইঞ্জিন’ সরকার গঠন। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পুরভোটের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সবকটিতেই পদ্ম ফোটানোর এই নয়া মিশন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র কৌতূহল।
শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের গাড়িখানায় দলের জেলা কার্যালয়ে নবগঠিত কোর কমিটির প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর তত্ত্বাবধানে এবং জেলা সভাপতি শংকর মাহাতোর উপস্থিতিতে এই বৈঠকেই আগামী দিনের রণকৌশল স্থির করা হয়েছে।
তৃণমূলকে রুখে ‘থার্ড ইঞ্জিন’ চালুর কৌশল
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে সরকার গঠনের পর এবার গ্রামীণ স্তরের শাসনব্যবস্থাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। দলের পরিভাষায় এটাই ‘থার্ড ইঞ্জিন’। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলায় ১২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত থাকলেও সমগ্র জেলার ১৭০টি পঞ্চায়েত এবং ৩টি পুরসভা দখল করাই এখন গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যপূরণে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ১৭ সদস্যের জেলা কোর কমিটিতেও কিছু রদবদল আনা হয়েছে, যেখানে সাংসদ, ৯ জন বিধায়ক এবং প্রবীণ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে কাজ করবেন এবং প্রতি মাসের শুরুতে কোর কমিটির পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আচরণ বদলের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনে জয়ের পর ইতিমধ্যেই জেলার ২০টি মণ্ডল কমিটির বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকগুলো থেকে দলের নেতাকর্মী ও শক্তি কেন্দ্র প্রমুখদের আচরণ বদলের কড়া বার্তা দিচ্ছেন জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো। রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের পর বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধী আসনে থাকার সময়কার আচরণ আর শাসকদলে থাকার আচরণ এক হবে না।
তৃণমূল জমানার দল, সরকার ও প্রশাসনের মিশে যাওয়ার সংস্কৃতি এবং তার ফলে তৈরি হওয়া দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে কর্মীদের সতর্ক করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে, প্রশাসন ও দলকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে দলের গায়ে কোনো কালিমালিপ্ত দাগ না লাগে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রায় দু’বছর বাকি থাকতেই বিজেপির এই আগাম প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক শুদ্ধিকরণের বার্তা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও সুসংহত করতে পারে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।