দিল্লির টাকা পেয়েই প্রাপ্তি স্বীকার, বাংলায় শুরু হচ্ছে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়
.jpeg?w=1280&resize=1280,720&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথেই আমূল বদলে গেল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের দীর্ঘদিনের চেনা রেওয়াজ। অতীতে দিল্লির বরাদ্দ নিয়ে লুকোছাপা কিংবা বঞ্চনার অভিযোগ তোলার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রের দেওয়া ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দুপুরে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সংঘাতের দিন পেরিয়ে এবার দিল্লির সাথে সহযোগিতার পথে হেঁটে রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
পাওনা স্বীকার ও আয়ুষ্মান ভারতের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাথে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর চলতি আর্থিক বছরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন খাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২,১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে দিল্লি, যার মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকের ৫২৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আগামী জুলাই মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। রাজ্যের যে ৬ কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রয়েছে, তাঁরা সকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বীমার আওতায় চলে আসবেন। এছাড়াও নতুন করে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে এবং ভিনরাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাঙালিরাও এই সুবিধার অংশীদার হতে পারবেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র আরও ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যার ফলে স্বাস্থ্য খাতে রাজ্যের মোট তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৩,০৭৯ কোটি টাকা।
সংঘাতের অবসান ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন
গত দুই আর্থিক বছরে পূর্ববর্তী সরকারের সাথে টানাপোড়েনের কারণে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের কোনো অর্থ পায়নি পশ্চিমবঙ্গ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাপ্তি কেবল কিছু অঙ্কের হিসাব নয়, বরং গত প্রায় ৫০ বছর ধরে চলা কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির এক বড়সড় গুণগত পরিবর্তন। অতীতে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল জমানায় যেভাবে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের নাম বদলে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করার প্রতিযোগিতা চলত এবং যার জেরে দিল্লির বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যেত, সেই সংকীর্ণ রাজনীতির খরা এবার কাটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন উত্তরবঙ্গের জন্য একটি নতুন ‘এইমস’ (AIIMS) হাসপাতাল এবং তিনটি জেলায় তিনটি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি আগামী ৩০ মে থেকে সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কিশোরীদের বিনামূল্যে সার্ভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়ার মতো একাধিক জনকল্যাণমুখী ও পরিকাঠামোগত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।