পুলওয়ামার মাস্টারমাইন্ড হামজার জানাজায় শীর্ষ জঙ্গি ও আইএসআই কর্তাদের ভিড়!

পুলওয়ামার মাস্টারমাইন্ড হামজার জানাজায় শীর্ষ জঙ্গি ও আইএসআই কর্তাদের ভিড়!

২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল চক্রী হামজা বুরহানের শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে রীতিমতো জঙ্গিদের মেলা বসেছিল। সম্প্রতি অজ্ঞাতপরিচয় যুবকদের গুলিতে নিহত এই শীর্ষ জঙ্গির জানাজায় হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে আল-বদরের শীর্ষনেতা বখত জামিন খানের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীরা উপস্থিত ছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিও এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে লক্ষ্য করা গেছে, যা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।

মুজাফ্ফরবাদের একটি বেসরকারি কলেজের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে আরজুমান্দ গুলজার দার ওরফে হামজা বুরহানকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২০২২ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কর্তৃক ‘জঙ্গি’ ঘোষিত এই সন্ত্রাসবাদীর। শুক্রবার ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তার জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে আল-বদর প্রধান জমিন খানের সুরক্ষায় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের বিশাল প্রহরা ছিল চোখে পড়ার মতো।

শিক্ষকতার আড়ালে সন্ত্রাসের জাল

পুলওয়ামার রত্নীপোরার বাসিন্দা হামজা উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গি সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয় এবং দ্রুত কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে কাশ্মীরে ফিরে পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত এক বিশাল জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে সে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জইশ-ই-মহম্মদের ঘটানো নৃশংস আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনার নেপথ্যেও হামজার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এরপরই সে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে গিয়ে নাম ভাঁড়িয়ে শিক্ষকতা শুরু করে এবং মুজাফ্ফরবাদের একটি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আড়ালে থাকার চেষ্টা করে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও তার আশপাশের এলাকায় একের পর এক ভারত-বিরোধী শীর্ষ জঙ্গির রহস্যজনক মৃত্যুর ধারাবাহিকতারই অংশ এই হামলা। পাকিস্তানের মাটিতে সুরক্ষিত আশ্রয়ে থাকা সত্ত্বেও যেভাবে দিনের আলোয় হামজাকে খতম করা হয়েছে, তা জঙ্গি সংগঠনগুলোর ভেতরে তীব্র আতঙ্ক ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের জন্ম দেবে। একই সঙ্গে, হামজার শেষকৃত্যে আইএসআই এবং একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর শীর্ষনেতাদের এই প্রকাশ্য মহামিলন আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীরে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতিকে আবারও জোরালোভাবে প্রমাণ করল। এর ফলে আগামী দিনে উপত্যকায় ভারত-বিরোধী জঙ্গি তৎপরতা হ্রাসের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *