তামিলনাড়ুতে নাবালিকাকে অপহরণ করে নৃশংস খুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেহ উদ্ধার ঘিরে রণক্ষেত্র কোয়েম্বাটুর

তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে এক দশ বছরের নাবালিকাকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার কোয়েম্বাটুরের সুলুর এলাকার কান্নামপালায়াম হ্রদের কাছ থেকে ওই নাবালিকার ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই পাশবিক ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির কাছের একটি মুদি দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া হয়। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর হ্রদের ধার থেকে তার ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের বাবা-মা ও আত্মীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুলুর থানার বাইরে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে তামিলনাড়ু পুলিশের ডিজি সন্দীপ রাই স্বয়ং কোয়েম্বাটুরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান বিজয় সরকারের আইনশৃঙ্খলার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দল ডিএমকে। তাদের অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধীদের এই আক্রমণের মুখে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘নারকীয়’ বলে বর্ণনা করে গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার প্রভাব ও সামাজিক উদ্বেগ
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় কোয়েম্বাটুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নাবালিকা ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন বহু মানুষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের জন্য এই ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া না হলে এই ক্ষোভ আরও বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।