পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা এবার বাংলায়, টান পড়তে পারে স্যালাইন ও প্যারাসিটামলের সরবরাহে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা এবার বাংলায়, টান পড়তে পারে স্যালাইন ও প্যারাসিটামলের সরবরাহে

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির পরোক্ষ প্রভাব এবার পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায়। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় রাজ্যে স্যালাইনসহ একাধিক জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংকটে ব্যাহত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মূলত প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ১০০ মিলিলিটার স্যালাইন, প্যান্টোপ্রাজল, ওআরএস (ORS), মেটফর্মিন, টেলমিসার্টান এবং ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহে টান পড়তে পারে। এই সংকটের জেরে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক পরিষেবা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিকল্প উৎসের সন্ধান ও ভবিষ্যতের প্রভাব

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলি আপাতত ‘নন-ক্যাটালগ’ বা স্বাভাবিক সরকারি তালিকার বাইরের উৎস থেকে সংগ্রহ করতে। অর্থাৎ, সংকট এড়াতে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে গিয়েও বিকল্প উপায়ে ওষুধ ও সরঞ্জাম জোগাড় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়া থেকে ওষুধ তৈরির বহু রাসায়নিক উপাদান ও প্যাকেজিং সামগ্রী আমদানি করা হয়। যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহণের খরচ এবং জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পেট্রোরাসায়নিক সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *