হোয়াইট হাউসে মোদীকে আমন্ত্রণ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ বার্তায় কি কৌশলগত সমীকরণ বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি?

কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর প্রায় ঘণ্টাখানেকের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে একদিকে যেমন বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মতো বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে, তেমনই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে হোয়াইট হাউসে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। কোয়াড বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন অনুষ্ঠিত এই সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
বাণিজ্য ও জ্বালানি সুরক্ষায় নতুন মাত্রা
ভারত ও আমেরিকার এই বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এবং এর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার কথা মাথায় রেখে মার্কিন জ্বালানি পণ্য কীভাবে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা, বাণিজ্য অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করা এবং অত্যাবশ্যকীয় নতুন প্রযুক্তির আদান-প্রদান বাড়াতে দুই দেশই সহমত পোষণ করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে যৌথ প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এই বৈঠকে।
১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব ও আগামীর প্রভাব
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় মাপের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক। বিদেশ সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কো রুবিওর এটিই প্রথম ভারত সফর। দিল্লির কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি তাঁর এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতের আঞ্চলিক শহরগুলো। দীর্ঘ ১৪ বছর পর কোনও মার্কিন বিদেশ সচিব পা রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায়। কলকাতা ছাড়াও জয়পুর ও আগ্রা সফর করবেন রুবিও। আঞ্চলিক এই জনসংযোগ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও বহুমুখী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই বৈঠকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, বিশ্বের মঙ্গলের জন্য ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করে যাবে। রবিবারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরবর্তী পর্ব এবং কোয়াড বৈঠকে ভারতের ভূমিকা দুই দেশের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।