সকালে এক কাপ চা না হলে নয়! কিন্তু জানেন, ভারতে প্রথম চা এনেছিল কারা?

বাঙালির আড্ডায় বা সকালের আলসেমি ভাঙতে এক কাপ গরম চা না হলে যেন দিনটাই শুরু হতে চায় না। ঝাঁ-চকচকে ক্যাফে থেকে শুরু করে গলির মোড়ের এক্কেবারে ছোট্ট গুমটি, সব জায়গাতেই চায়ের দোকানে বছরভর মানুষের ভিড়। ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠা এই পানীয়ের ইতিহাস কিন্তু বেশ আকর্ষণীয়। একসময় যে দেশে চায়ের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, আজ সেই ভারতই বিশ্বের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশ।
চিনের আধিপত্য ভাঙতে ব্রিটিশদের চাল
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চায়ের আদি জন্মস্থান প্রাচীন চিনদেশে। সেখানে মূলত ভেষজ ঔষধি হিসেবে এই পানীয় ব্যবহার করা হতো। বিশ্বজুড়ে চায়ের ব্যবসায় চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙার লক্ষ্য নিয়েছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কো ম্পা নি। বিকল্প হিসেবে তারা ভারতের মাটিকে বেছে নেয়। উনিশ শতকে আসামে স্থানীয় প্রজাতির চা গাছের হদিশ পাওয়ার পর কো ম্পা নি সেখানে বিপুল আকারে চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে আসামের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ও বিখ্যাত চা উৎপাদনকারী অঞ্চল।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে চায়ের প্রভাব
ভারতে চা চাষের সূচনা শুধু মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। চা উৎপাদন ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। চা বাগিচা এবং এর প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের হাত ধরে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের দার্জিলিং চায়ের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এর অনন্য ফুলেল সুগন্ধের কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি চায়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অন্যদিকে, কড়া লিকার ও দুধ-চায়ের জন্য আসামের চায়ের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি বা কাশ্মীরের কাওয়া ভারতের চা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, যা প্রতিবছর দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে।