বিজেপির ‘বুলডোজার রাজ’ ও গ্রেফতারির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা! ফেসবুকে পোস্ট করলেন তীব্র প্রতিবাদী কবিতা ‘দখল’

বিজেপির ‘বুলডোজার রাজ’ ও গ্রেফতারির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা! ফেসবুকে পোস্ট করলেন তীব্র প্রতিবাদী কবিতা ‘দখল’

রাজারহাট-নিউ টাউনের সংখ্যালঘু বুথে ৯৭ শতাংশ বিজেপি ভোট পড়ার অলৌকিক বিতর্ক এবং আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের ‘বুলডোজার’ চড়ে মেগা ধন্যবাদ যাত্রার আবহে, বাংলার রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্রে এক মস্ত বড় বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যেভাবে রাজ্যজুড়ে দেদার বেআইনি দখলমুক্ত অভিযান ও উত্তরপ্রদেশের কায়দায় বুলডোজার চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি কলম ধরলেন মমতা। ফেসবুকে পোস্ট করলেন তাঁর নতুন প্রতিবাদী কবিতা ‘দখল’।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এই প্রথম দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক অ্যাকশনের বিরুদ্ধে নিজের চিরাচরিত লড়াকু মেজাজে নেটমাধ্যমে গর্জে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কবিতার ছত্রে ছত্রে রয়েছে তীক্ষ্ণ বিজেপি বিরোধিতা এবং সুকৌশলে ক্ষমতার দাপটকে চ্যালেঞ্জ করার চেনা রাজনৈতিক সুর।

কবিতার ছত্রে ছত্রে প্রতিরোধের ডাক, প্রশ্ন তুললেন গ্রেফতারি নিয়ে

বরাহনগরে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দাপুটে তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত এবং বিধাননগরের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়ার গ্রেফতারির পর থেকেই ব্যাকফুটে থাকা ঘাসফুল শিবিরকে এই কবিতা এক নতুন অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘দখল’ কবিতার মাধ্যমে সরাসরি নতুন সরকারের ‘দানবিকতা’ ও ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ নিয়ে একাধিক জ্বলন্ত প্রশ্ন তুলেছেন।

ফেসবুকে পোস্ট হওয়া কবিতার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ও জ্বলন্ত লাইন নিচে তুলে ধরা হলো:

“আর কত বুলডোজার? আর কত অত্যাচার? আর কত দানবিকতা?…”

“শত শত গ্রেপ্তার কেন? কত পুরস্কার পাচ্ছো?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত দুটি বিষয়কে নিশানা করেছেন— প্রথমত, হুগলির বাঁশবেড়িয়া বা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে গরিব ও হকারদের উচ্ছেদ করে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নামে বুলডোজার চালানো হচ্ছে তার তীব্র বিরোধিতা। দ্বিতীয়ত, ভোট পরবর্তী সময়ে যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতাকর্মীকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পুরস্কার পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা হিসেবেই দেগে দিয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তরজা, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘দখল’ কবিতাটি পোস্ট হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল হয়ে গেছে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা যখন এই কবিতাকে ‘জনগণের আসল কণ্ঠস্বর’ এবং ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ইশতেহার’ বলে শেয়ার করছেন, ঠিক তখনই একে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বর্তমান শাসকদল বিজেপি।

বিজেপির আইটি সেল ও শীর্ষ নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, “যাঁদের আমলে বাংলায় সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, নিয়োগ দুর্নীতি এবং জলাশয় বুজিয়ে বেআইনি বহুতল বানানোর রমরমা কারবার চলেছে, আজ সুশাসনের বুলডোজার নামতেই তাঁদের বুকে কাঁপন ধরেছে। আইন নিজের গতিতে চলছে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের গ্রেফতারি দেখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন কবিতার আড়ালে নিজেদের পাপ ঢাকতে চাইছেন।”

একদিকে যখন রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভুয়ো বেতন ও রাজকোষের অপচয় রুখতে নবান্নে ‘ম্যানপাওয়ার অডিট’ শুরু হয়েছে এবং অন্যদিকে তিনবিঘা সীমান্তে বিজিবির আপত্তি উড়িয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে প্রশাসন ‘মিশন মোড’-এ এগোচ্ছে— সেই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল ও তোলপাড়ের সমান্তরালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘কবিতা-অস্ত্র’ প্রমাণ করে দিল যে, ক্ষমতা হারালেও রাজপথের লড়াই এবং বিরোধী নেত্রী হিসেবে নব্য বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার তিনি একচুলও কমাননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *