ওয়েট্রেসের ছদ্মবেশে চিনা সামরিক অফিসার! ট্রাম্পের বেজিং সফরে মাস্কের ওপর নজরদারির বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

ওয়েট্রেসের ছদ্মবেশে চিনা সামরিক অফিসার! ট্রাম্পের বেজিং সফরে মাস্কের ওপর নজরদারির বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মোদি-মেলোনির ‘মিষ্টি উপহার’ এবং নেটদুনিয়ায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সাইবার সংঘাতের আবহের মাঝেই, এবার বিশ্ব রাজনীতিতে এক হাড়হিম করা গুপ্তচরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেজিং সফরের সময় আমেরিকার হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধিদলের ওপর শি জিনপিং প্রশাসন গভীর নজরদারি চালিয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিশিষ্ট চিনা বংশোদ্ভূত ব্লগার জেনিফার জেং। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিশ্বের শীর্ষ ধনী তথা প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ইলন মাস্কের ঠিক পেছনে ওয়েট্রেসের পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আসলে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র এক উচ্চপদস্থ অ্যাক্টিভ-ডিউটি সামরিক কর্মকর্তা!

মাস্কের পেছনে ‘মেজর চেং চেং’, লাল পোশাকের নিচে কি ছিল অস্ত্র?

সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় স্বাধীন সাংবাদিক জেনিফার জেং বেজিংয়ের ওই রাষ্ট্রীয় ভোজসভার বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইলন মাস্কের সম্মানে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) আয়োজিত ওই রাজকীয় নৈশভোজে লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত যে ওয়েট্রেসদের খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেছে, তাঁদের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিনা নেটিজেনদের সূত্রে সেই নারীদের চিনা সামরিক পোশাকে (Military Uniform) থাকা কিছু পুরোনো ছবিও এখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল।

জেনিফার জেং সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেছেন, রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ইলন মাস্কের ঠিক পেছনে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী ওয়েট্রেস আসলে চিনা সেনাবাহিনীর এলিট ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ‘মেজর চেং চেং’ (Major Cheng Cheng)। এই নারী অফিসার চিনের সামরিক আনুষ্ঠানিকতার ‘অপারেশন ম্যানুয়াল’ তৈরিতেও যুক্ত ছিলেন। অপর এক পোস্টে জেং আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, খাবার পরিবেশনের অছিলায় মাস্কের পাশে দাঁড়ানো মেজর চেং চেং-এর ওই লাল পোশাকের আড়ালে কোনো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বা অত্যাধুনিক নজরদারি ডিভাইস লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।”

হানিট্র্যাপ থেকে করপোরেট স্পাইং, জিনপিং প্রশাসনের পুরোনো কৌশল

যদিও এই সুনির্দিষ্ট ও বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে বেজিংয়ের চিনা প্রশাসন বা ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেনিফার জেং-এর এই চাঞ্চল্যকর দাবি চিনের আন্ডারকভার গোয়েন্দা সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করেছে যে, করপোরেট প্রযুক্তি খাত, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক (যেমন স্টারলিংক) এবং কূটনৈতিক মহলের গোপন তথ্য হাতাতে নিরীহ পরিচয় বা ছদ্মবেশের আড়ালে চিনা রাষ্ট্রীয় এজেন্টরা প্রতিনিয়ত অনুপ্রবেশ করছে। অতীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন রাজনীতিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘ফ্যাং ফ্যাং হানিট্র্যাপ’ (Fang Fang Honeytrap) অপারেশনও এই ধরণের গভীর আন্ডারকভার কৌশলেরই অংশ ছিল।

উল্লেখ্য, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে জেনিফার জেং-এর এমন বিস্ফোরক দাবি এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালে কানাডায় খলিস্তানপন্থী চরমপন্থী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও চিনা কমিউনিস্ট পার্টির হাত ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, ভারত ও পশ্চিমা দুনিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতেই বেজিং সেই ছক কষেছিল। এবার আমেরিকার নতুন প্রশাসনের প্রথম বেজিং সফরেই খোদ ইলন মাস্ক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চিনা জেনারেলের এই ছদ্মবেশী নজরদারির খতিয়ান আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ঠান্ডা যুদ্ধকে (Tech War) কোন স্তরে নিয়ে যায়, আন্তর্জাতিক মহলে এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *