পুরুলিয়া-ফলতা কানেকশন! জ্যোতির্ময়ের উত্থানের নেপথ্যে কোন শক্তিশালী করিডর?

একদা তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার ১ লক্ষের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিপুল জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আর এই জয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নাম। অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীদের আস্থাতভাজন এই কুড়মি নেতার নিখুঁত রণকৌশলের কারণেই ফলতার মতো কঠিন পিচেও পদ্ম ফোটানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ১৩ মে থেকে ফলতার মাটিতে পড়ে থেকে ছোট ছোট বৈঠক, মিছিল ও জনসংযোগের মাধ্যমে বিরোধীদের জমি পুরোপুরি কেড়ে নেন তিনি। এর আগে পুরুলিয়া জেলার ৯টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই (৯-০) বিজেপিকে জিতিয়ে জঙ্গলমহলে তৃণমূলকে সাফ করেছিলেন এই প্রান্তিক নেতা।
তৃণমূলের দুর্গ পতন ও কুড়মি নেতার চালিকাশক্তি
জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর এই সাফল্যের মূল কারণ মাটির সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ এবং কুড়মি জনজাতিকে এককাট্টা করার ক্ষমতা। জাতিসত্তার আন্দোলনে তৎকালীন শাসক শিবিরের ওপর কুড়মি সমাজের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি আগেই জঙ্গলমহলের চার জেলা— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ফলতার নির্বাচনের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর তৈরি রুটেই মেগা প্রচার চালিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জ্যোতির্ময়ের এই স্ট্র্যাটেজির চাপেই ভোটের আগেই কার্যত ময়দান ছাড়তে বাধ্য হন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। ২০১৯ সালে প্রথমবার সাংসদ হওয়ার পর ২০২৪-এর লোকসভাতেও অভ্যন্তরীণ নানা বিতর্ককে উড়িয়ে দ্বিতীয়বার জয়ী হন তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচনে পুরুলিয়ার সব আসনে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার পাশাপাশি ফলতাতেও ডায়মন্ড হারবার মডেলের দাপট চূর্ণ করে তৃণমূল নেতৃত্বকে কড়া জবাব দিয়েছেন এই নেতা।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিপুল জয়ের পর শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, দিল্লির দরবারেও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেল। ঝালদার এক প্রত্যন্ত গ্রামের অর্থনীতিতে স্নাতক এই কৃষিজীবী নেতার হাত ধরে পুরুলিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক উপেক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। বাম বা তৃণমূল জমানায় পুরুলিয়ার নেতারা চিরকালই রাজ্য রাজনীতির মূল স্রোত থেকে কিছুটা আড়ালে থেকেছেন, কিন্তু জ্যোতির্ময় সেই ধারা ভেঙে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনমহল, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা জয়ে তাঁর এই অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে জঙ্গলমহলের এই কুড়মি নেতার স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।