বিচারের অপেক্ষায় ১২ দিন, অবশেষে চোখের জলে শেষবিদায় ত্বিষাকে!

বিবাহের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তরুণী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় দেশ। গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারের দীর্ঘ ১২ দিন পর, অবশেষে সম্পন্ন হলো তাঁর শেষকৃত্য। হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি এইমসের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পর রবিবার ভোপালের ভদ্রভদা ঘাটে ত্বিষার শেষযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে অশ্রুসজল চোখে তাঁর মুখাগ্নি করেন ভাই মেজর হর্ষিত শর্মা।
প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ি ও পণের নির্যাতন
৩৩ বছর বয়সী ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিং। এই প্রভাবশালী পরিবারের চাপের কারণে প্রথম দিকে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য, ত্বিষার শাশুড়ি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং স্বামী পেশায় আইনজীবী। শুরুতে শাশুড়ি গিরিবালা সিং পুত্রবধূর্তে মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণের চেষ্টা করলেও পরিবার তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হাইকোর্ট এইমসের চিকিৎসকদের দিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।
গ্রেফতার ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি
এই ঘটনায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর স্বামী সমর্থ সিং জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে তদন্তে অসহযোগিতার কারণে শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের জামিন বাতিলের নোটিস জারি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সুপ্রিম কোর্টও এতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ত্বিষার মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি তাঁর শরীরে মেলা পুরনো ও নতুন আঘাতের চিহ্নগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের চাপ এড়িয়ে এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যের প্রকৃত সত্য এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অকাট্য প্রমাণ উদঘাটন করাই এখন তদন্তকারী ও আদালতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- গত ১২ মে ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৩৩ বছর বয়সী ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ।
- প্রভাবশালী শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও স্বামী আইনজীবী হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি এইমসের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়।
- ঘটনার ১২ দিন পর ভোপালে ত্বিষার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় এবং অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- সিবিআই-এর হাতে এসেছে মৃত্যুর আগের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার বিশেষ শুনানি রয়েছে।