মন্দারমণি থেকে পুলিশের জালে কাঁচরাপাড়ার যুব তৃণমূল নেতা বনি, শুরু রাজনৈতিক শোরগোল!

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই কড়া বার্তার পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার ধরপাকড়। এই অভিযানে এবার পুলিশের জালে জড়ালেন উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার যুব তৃণমূল নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনি। একটি পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র মামলার সূত্রে ধরে বীজপুর থানার পুলিশ সৈকত শহর মন্দারমণি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার ধৃত নেতাকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। বর্তমানে বীজপুর থানায় রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে সংঘাত ও ক্ষমতার অলিন্দে দ্রুত উত্থান
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে বনির দ্রুত উত্থান ঘটে। তৎকালীন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর তীব্র বচসার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় বনির রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও প্রভাব উল্কার গতিতে বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় দলীয় সমীকরণেও বদল আনেন তিনি। কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে তৎকালীন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিকের শিবিরে নিজের যাতায়াত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে শুরু করেন বনি।
রাজনৈতিক সমীকরণ বদল ও গ্রেপ্তারের নেপথ্য কারণ
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া এবং ব্যারাকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতে বিজেপি জয়লাভ করেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে পুলিশ প্রশাসনও পুরনো ঝুলে থাকা অপরাধমূলক মামলাগুলির তদন্তে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চায়নি পুলিশ প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই এই হাইপ্রোফাইল গ্রেপ্তারির ঘটনা শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।