পেট্রোল, ডিজেলের পর এবার মূল্যবৃদ্ধি কন্ডোমের, আশঙ্কায় ভুগছেন নির্মাতারা

পেট্রোল, ডিজেলের পর এবার মূল্যবৃদ্ধি কন্ডোমের, আশঙ্কায় ভুগছেন নির্মাতারা

ইরান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এবার সরাসরি পড়তে চলেছে কন্ডোমের বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর জেরে বিশ্ব জুড়ে কাঁচামালের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই ভারতের অন্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা ম্যানকাইন্ড ফার্মা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে দেশে কন্ডোমের দামও বাড়তে পারে। সংস্থার সিইও শীতল অরোরা জানিয়েছেন, আপাতত কয়েক মাসের জন্য পর্যাপ্ত স্টক থাকলেও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং তেলের দাম উঁচুতে থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার অতিরিক্ত চাপ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে।

তেলের দামের সঙ্গে কন্ডোমের সম্পর্ক

কন্ডোম মূলত ল্যাটেক্স বা প্রাকৃতিক রাবার দিয়ে তৈরি হলেও এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম-নির্ভর উপাদানও ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডোম তৈরিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ, সিলিকন অয়েল, লুব্রিক্যান্ট এবং প্যাকেজিংয়ের উপকরণ সবই খনিজ তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে এই সমস্ত কাঁচামালের খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়কে বাড়িয়ে তোলে। বর্তমানে দেশে ১০টি ম্যানফোর্স কন্ডোমের একটি প্যাকেটের দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে হলেও পরিস্থিতি জটিল হলে এই দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।

বিশ্ব জুড়ে সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সমস্যার মুখে শুধু ভারতীয় সংস্থাগুলিই পড়েনি, বিশ্ব জুড়েই এর চাপ অনুভূত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কন্ডোম প্রস্তুতকারী মালয়েশিয়ার ‘Karex’ সংস্থাও ইতিমধ্যে কন্ডোমের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যারা ডিউরেক্সের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকেও পণ্য সরবরাহ করে। ইরান যুদ্ধের পর থেকে সিন্থেটিক রাবার, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পরিবহণ খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডোমের দাম বৃদ্ধি পেলে নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কন্ডোম উৎপাদন হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, কন্ডোমের দাম বাড়লে এর নিয়মিত ব্যবহার কমে যেতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যের ওপর। এর ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং যৌনরোগ ছড়ানোর ঝুঁকি একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *