তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ, হিট স্ট্রোকের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি চিকিৎসকদের!

কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৫ ও ২৬ মে পর্যন্ত এই অস্বস্তিকর গরমের সতর্কতা বজায় থাকবে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে হিট স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া রোদে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে।
পুরুলিয়ায় পারদ ৪২ ডিগ্রিতে, চরমে জনভোগান্তি
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ানক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয় স্তরে তীব্র স্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই রৌদ্রের তেজ বাড়তে থাকায় দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অতি প্রয়োজনে যাঁরা বাইরে বেরোচ্ছেন, তাঁরা মাথা ও মুখ কাপড়ে ঢেকে রোদের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তবে গরমের এই তীব্রতার জেরে ডাবের জল, ঠান্ডা পানীয়, শরবত ও ফলের রসের দোকানগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অস্বস্তির কারণ ও আবহাওয়া পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের কারণে কলকাতা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। তবে এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না। আগামী বুধবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে আশ্বস্ত করেছে হাওয়া অফিস।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ
তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকরা বেশ কিছু জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, ডাবের জল, জবের ছাতু বা তরল খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তীব্র রোদে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বাইরে বেরোতে হলে ছাতা, টুপি এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
যদি কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, তবে তাঁকে দ্রুত ছায়ায় বা ঠান্ডা পরিবেশে নিয়ে যেতে হবে এবং ঠান্ডা জল বা বরফ দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করার পাশাপাশি বাতাস করার ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন থাকলে তাঁকে দ্রুত জল খাওয়ানোর এবং অসুস্থতা বাড়লে অবহেলা না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।