১০ দিনে ৪ বার দাম বাড়ল, কলকাতায় রেকর্ড ছুঁল পেট্রল-ডিজেল
.jpg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
রেকর্ড হারে ফের একদফায় আড়াই টাকারও বেশি বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সোমবার সকাল থেকে নতুন হার কার্যকর হতেই মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় টান পড়েছে। এই নিয়ে গত মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে চতুর্থবারের মতো বৃদ্ধি পেল জ্বালানির দাম। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৮৭ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতাতেই জ্বালানির দামের গ্রাফ সবচেয়ে ঊর্ধ্বমুখী।
আন্তর্জাতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ
মূল্যবৃদ্ধির এই আকস্মিক ঝড়ের নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরেই দুই সপ্তাহের কম সময়ে পর পর চারবার দেশের বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় এই দুই জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। এর আগে গত শনিবারও লিটার প্রতি প্রায় ১ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল।
মেট্রো শহরগুলির চিত্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন তালিকায় রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটারে ২ টাকা ৬১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০২ টাকা ১২ পয়সা এবং ডিজেল ২ টাকা ৭১ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সায়। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে পেট্রলের দাম ২ টাকা ৭২ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১১১ টাকা ২১ পয়সা এবং চেন্নাইতে ২ টাকা ৪৬ পয়সা বৃদ্ধির পর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ৭৭ পয়সা।
সরকারি তেল সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এখনও দেশে পেট্রল ১৩ টাকা এবং ডিজেল ৩৮ টাকা কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই ফারাক পূরণ করতে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। উদ্ভূত আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর কথা বলেছেন। এখন সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র ভর্তুকি বাড়ায় নাকি রাজ্যগুলি করের পরিমাণ কমায়, সেদিকেই তাকিয়ে আমজনতা।