মোদী আমার দারুণ বন্ধু, ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসায় নয়া মোড় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে

মোদী আমার দারুণ বন্ধু, ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসায় নয়া মোড় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে

নয়াদিল্লি, ২৫ মে ২০২৬: আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় নতুন করে শোরগোল ফেলে দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ ভার্চুয়াল বার্তা। ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি তথা ‘ফ্রিডম ২৫০’ অভিযানের এক জমকালো অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভারতের পাশে ১০০ শতাংশ থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দুই দেশ আগে কখনও একে অপরের এত কাছাকাছি আসেনি।

অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোরের উপস্থিতিতে ট্রাম্পের এই লাইভ বার্তাটি শোনানো হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদীর খোঁজ নেন এবং তাঁকে নিজের অত্যন্ত ভালো বন্ধু বলে অভিহিত করেন। এই বিশেষ প্রচারকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে ট্রাম্পের ছবি সাঁটানো অটো-রিকশাও চলাচল করতে দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক জল্পনার অবসান ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে সমস্ত জল্পনা চলছিল, এই বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনার অর্থ ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া নয়। বরং আমেরিকা ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য অংশীদার বলেই মনে করে। অতীতে হিউস্টনের ‘হাউডি মোদী’ এবং আহমেদাবাদের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই নেতার যে ব্যক্তিগত রসায়ন দেখা গিয়েছিল, এই বার্তা তারই ধারাবাহিকতা।

বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রভাব

বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং ‘কোয়াড’ (ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া) জোটের হাত ধরে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ট্রাম্প তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে আমেরিকার শক্তিশালী অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তি, শক্তি ও কৌশলগত ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা দুই দেশের চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে। আগামী মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ সম্মেলনে মোদী ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠক বিশ্ব নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *