তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া!

রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন মহলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পারদ চড়ছিলই, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া। সোমবার দুপুরে সবংয়ের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। একই সঙ্গে, মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসেবে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন তিনি।
নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ও দলীয় অন্তর্ঘাতের অভিযোগ
সাংবাদিক সম্মেলনে মানস ভুঁইয়া সবং কেন্দ্রে নিজের পরাজয়ের দায় স্বীকার করলেও দলের অভ্যন্তরের তীব্র কোন্দল ও অন্তর্ঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ ছায়াসঙ্গী অমল পান্ডার বিজেপির প্রার্থী হওয়া এবং নিজের হারের নেপথ্যে কলকাতার তৃণমূল ভবনসহ ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষ নেতার ভূমিকা রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। ২০১১ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিজের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের কেউ তাঁর সেই ভূমিকার উপযুক্ত স্বীকৃতি দেননি। তবে দলের অন্দরে একাংশ যখন পরাজয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অন্য নেতাদের সুবিধাবাদী আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন মানস।
শুভেন্দুর প্রশংসা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ
এই ভরাডুবির আবহেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা মেদিনীপুরের সন্তান শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, মেদিনীপুরের একজন মানুষ হিসেবে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তিনি গর্ব বোধ করছেন। একই সাথে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং মানুষের চোখের জল মোছানোর আবেদন জানান তিনি। শুভেন্দুর সাথে আগামী দিনে যোগাযোগের সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছেন মানস ভুঁইয়া। ১৯৮২ সাল থেকে বাম আমলেও অপরাজেয় থাকা সবংয়ের এই বর্ষীয়ান নেতার এমন ‘বেসুরো’ মন্তব্য এবং অবস্থান পরিবর্তন, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।