ছোটবেলার সঙ্গীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ অপর্ণা সেন, আবেগঘন পোস্টে কাঁদলেন অনুরাগীরাও
.jpg.webp?w=900&resize=900,600&ssl=1)
প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা কাটানো সহজ নয়, বিশেষ করে সেই মানুষটি যদি হন জীবনের প্রথম ভাগ থেকে গড়ে ওঠা সমস্ত স্মৃতির অংশীদার। ছোটবেলার খেলার সঙ্গী এবং জীবনের দীর্ঘ পথ চলার অন্যতম ভরসা, নিজের বোন অনুরাধা লাহিড়িকে হারিয়ে এই মুহূর্তে গভীর শোকে মগ্ন প্রবীণ অভিনেত্রী ও প্রখ্যাত পরিচালক অপর্ণা সেন। পরিবারের কাছে ‘রত্না’ নামে পরিচিত বোনের আকস্মিক প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে এই যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেছেন শিল্পী, যা ছুঁয়ে গেছে তাঁর অসংখ্য অনুরাগীর হৃদয়।
রীনা, রত্না ও লক্ষ্মী— এই তিন বোনের মধ্যে রত্নার সঙ্গেই অপর্ণা সেনের আত্মিক টান ছিল সবচেয়ে বেশি। বোনের মৃত্যুর পর শোকাতুর অপর্ণা সেন লিখেছেন, তাঁর ছোটবেলার সঙ্গী চলে গিয়েছেন, যাঁর সঙ্গে তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতাম। যত দিন না আবার দেখা হচ্ছে, তত দিন রত্নার সমস্ত স্মৃতি নিজের মনের মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেওয়ার এক মর্মস্পর্শী অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে তাঁর লেখায়। একটি মাত্র পোস্টের সামান্য কয়েকটি লাইনে ফুটে উঠেছে এক দিদির চরম শূন্যতা ও আজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য স্নেহবন্ধনের গল্প।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর গুরুগ্রামে শেষ নিঃশ্বাস
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গুরুগ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অনুরাধা লাহিড়ি। ২০২২ সালে একটি বড়সড় স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করেছিল। স্ট্রোকের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাঁর শরীরে থাবা বসায় পার্কিনসন্স রোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই স্নায়বিক রোগের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও লোপ পেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন তিনি।
চলচ্চিত্র জগৎ ও অনুরাগীদের সমবেদনা
অপর্ণা সেনের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর করা আবেগঘন পোস্টটির নিচে সাধারণ অনুরাগী থেকে শুরু করে টলিউডের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। দুই বোনের এই গভীর ও নিবিড় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে অনেকেই এই কঠিন সময়ে প্রবীণ অভিনেত্রীকে মানসিক শক্তি জোগানোর বার্তা দিচ্ছেন। চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এই বয়সে এসে এমন এক পরম বন্ধুকে হারানো অপর্ণা সেনের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি।