রাইসিনা হিলসে উজ্জ্বল বাংলা, প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী

রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে আয়োজিত বিশেষ নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট। দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির অন্যতম ‘পদ্ম’ পুরস্কারে ভূষিত হলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দিকপাল ব্যক্তিত্বরা। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, মে মাসের ২৫ তারিখ পড়ন্ত বিকেলে রাইসিনা হিলসের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মনোনীতদের হাতে এই সম্মান তুলে দেন। এই বছরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টলিউডের অভিভাবক তথা ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে উঠল পদ্মশ্রী সম্মান। অন্যদিকে, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর পক্ষে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী-সাংসদ হেমা মালিনী।
শিল্প, সাহিত্য, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও সমাজসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী পুরস্কার। এই তালিকায় প্রসেনজিৎ ও ধর্মেন্দ্র ছাড়াও বিনোদন জগৎ থেকে স্থান পেয়েছেন মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তি এবং প্রখ্যাত গায়িকা অলকা ইয়াগনিক। উল্লেখ্য, এই বছরের পদ্ম সম্মানের তালিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জন বাঙালি রয়েছেন, যা জাতীয় স্তরে বাংলার সংস্কৃতির জয়জয়কারকে আরও একবার প্রমাণ করে।
টলিউডের মুকুটহীন সম্রাটের রাজকীয় স্বীকৃতি
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবির মাধ্যমে রূপোলি পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হলেও, নায়ক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন ‘অমরসঙ্গী’ ছবির হাত ধরে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জীবনে বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। একটা সময় যখন বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমা খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিল, তখন একক দক্ষতায় ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরেছিলেন ‘বুম্বাদা’। প্রায় সাড়ে তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করা এই তারকাকে কেবল একজন অভিনেতা নয়, বরং টলিউডের অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়। রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তাঁর এই সম্মান গ্রহণ বাংলা সিনেমা জগতের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করল।
দেওল পরিবারে আবেগঘন মুহূর্ত
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁর হয়ে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান গ্রহণ করার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি হেমা মালিনী। পুরস্কার গ্রহণের আগে হেমা জানান, এটি দেওল পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগঘন এক মুহূর্ত। সানি, ববি-সহ পুরো পরিবার আজ আনন্দিত।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই জাতীয় স্বীকৃতি আগামী দিনে আঞ্চলিক সিনেমার মানোন্নয়নে এবং তরুণ অভিনেতাদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। একইসঙ্গে কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্রকে মরণোত্তর সম্মান প্রদান ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখল।