মধ্যবিত্তের পকেটে যেন অগ্নিপরীক্ষা! মাত্র দু’সপ্তাহে চতুর্থবার বাড়ল পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম

লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে আবারও বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের আমজনতা। কলকাতা সহ সমগ্র দেশজুড়েই একধাক্কায় বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তারই সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের বাজারে। বিগত দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে এই নিয়ে চতুর্থবার দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্তের পকেটে বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মেট্রো শহরগুলিতে জ্বালানির নয়া দর
দেশের প্রধান চার মেট্রো শহরের মধ্যে বর্তমানে তিলত্তমা কলকাতাতেই জ্বালানির দাম সবচেয়ে চড়া। কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২.৮৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ টাকায়। অন্যদিকে, লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ২.৮০ টাকা বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় আজ থেকে ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৯.৮২ টাকায়।
রাজধানী দিল্লিতে আজ প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বেড়েছে। এর ফলে দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম হয়েছে যথাক্রমে ১০২.১২ টাকা ও ৯৫.২০ টাকা। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে পেট্রোলের দাম ২.৭২ টাকা বৃদ্ধির পর লিটার প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৮১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ২.৪৬ টাকা ও ২.৫৭ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে নতুন দর দাঁড়িয়েছে ১০৭.৭৭ টাকা এবং ৯৯.৫৫ টাকা।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ তেল বিপণন সংস্থাগুলি ক্রমাগত আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই লোকসান সামাল দিতে তেল কো ম্পা নিগুলি ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম বাড়াতে শুরু করেছে।
জ্বালানির এই লাগাতার দাম বৃদ্ধির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহন খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে, যার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং শাকসবজির বাজার দর আরও চড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি পরিবহন ও কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য সামগ্রীর উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও তাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।