তিন দিন পরই কমবে গরম, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস

তীব্র গরম আর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টি হলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে রেহাই মিলছে না। তবে এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মিলতে পারে মুক্তি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে কলকাতা সহ রাজ্যের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে, যা সাধারণ মানুষকে বড়সড় স্বস্তি দেবে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বিকেলের পর বা সন্ধ্যার দিকে শহরের কিছু অংশে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে হালকা ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সোমবার দিনভর বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম বজায় থাকবে। এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে আজ পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে কালবৈশাখীর দাপট দেখা যেতে পারে। এই চার জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে আপাতত গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গে যখন স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষা, উত্তরবঙ্গে তখন বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন কিছু এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণেই দক্ষিণবঙ্গে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে আগামী তিন দিন পর থেকে তাপমাত্রা কমলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে পার্বত্য অঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলোতে জলস্তর বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।