দেড় বছরের অপেক্ষা শেষ, মাত্র ১২০ ঘণ্টায় ঘুচল চিংড়িঘাটা মেট্রোর জট!

দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে নাটকীয় গতিতে সম্পন্ন হলো চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল অংশের কাজ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা এই প্রকল্পের জট কাটতেই মাত্র ১২০ ঘণ্টারও কম সময়ে দুই দফায় বসিয়ে দেওয়া হলো মূল ভায়াডাক্ট। এর ফলে অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে বড় বাধাটি দূর হলো এবং চলতি বছরের শেষেই এই রুটে মেট্রো চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
১২০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপারেশন ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ
প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে দুই দফার বিশেষ সময়সীমা বা ‘উইন্ডো’ ব্যবহার করে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)। প্রথম দফায় গত ১৫ মে রাত থেকে ১৮ মে সকাল পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টার ব্লকে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে ২৮ মিটার দীর্ঘ একটি ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই সময়ে ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙাগামী লেনে আংশিক যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
এক সপ্তাহের বিরতি দিয়ে ২২ মে থেকে ২৫ মে সকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ৬০ ঘণ্টার ব্লকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ পার করে আরভিএনএল। এবার ৩১৮ ও ৩View নম্বর পিলারের মধ্যে ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বসানোর লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১২০ ঘণ্টার পরিশ্রমে ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত ৬২ মিটার ভায়াডাক্টের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। চিংড়িঘাটার আশপাশে অরেঞ্জ লাইনের মোট ৩৬৬ মিটার অংশ আটকে ছিল, যার জটিলতম অংশটি এখন সম্পন্ন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকি কাজের জন্য আর কোনো বড় ট্র্যাফিক ব্লকের প্রয়োজন হবে না।
বিকল্প রাস্তার পরিকল্পনা ও আগামী দিনের লক্ষ্য
চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের পূর্বদিকের পিলারে কংক্রিট ডেক বসানোর সময় যানজট এড়াতে একটি নতুন বিকল্প রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সল্টলেক বাইপাসের ধারের খালের পাশ দিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই ৬০ মিটারের রাস্তাটির জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ ও আরভিএনএল যৌথভাবে জায়গা পরিদর্শন করেছে। নতুন এই ট্র্যাফিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে আরও মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হওয়ায় ৫০০ টনের বিশালাকার লঞ্চার মেশিনটি একে একে পিলার পেরিয়ে ৩২৯ নম্বর পিলারের দিকে এগিয়ে যাবে। সেখানে নিক্কো পার্কের দিকে থাকা গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে এই লাইনের সংযোগ স্থাপন করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী পূজার পরপরই কিংবা বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ মানুষ এই রুটে মেট্রো পরিষেবার সুবিধা পাবেন।