কোটি টাকার তোলাবাজি রুখতেই বীরভূমে কালো পাথরের রাজস্বে ঐতিহাসিক রেকর্ড

কোটি টাকার তোলাবাজি রুখতেই বীরভূমে কালো পাথরের রাজস্বে ঐতিহাসিক রেকর্ড

বীরভূমের পাথর খাদান মানেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের সামনে ভেসে উঠত কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি আর বেনিয়মের ছবি। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এই পাথর খাদানগুলিকে কেন্দ্র করে বারবার বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাত রাজ্য সরকার। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। গত ২৩ মে (শনিবার) বীরভূমের কালো পাথর থেকে সরকারের একদিনের রাজস্ব আদায় পৌঁছেছে প্রায় ৩ কোটি টাকায়, যা রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

অবৈধ চেকগেট বন্ধ হতেই লক্ষ্মীলাভ

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর বীরভূম জেলা জুড়ে সক্রিয় থাকা সমস্ত অবৈধ দলীয় চেকগেট এবং তোলাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ মে থেকে জেলায় শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত চেকপোস্টের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় শুরু হয়। আর এই বেআইনি সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ হতেই রাতারাতি বদলে যায় ছবিটা। সরকারি নজরদারিতে ১৭ মে থেকে ২৩ মে—মাত্র এক সপ্তাহেই বীরভূমের কালো পাথর থেকে রাজ্য সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১৭.১৯ কোটি টাকা।

প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও জরিমানা

পাথর পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ফাঁকি রুখতে বর্তমানে বীরভূমের পাঁচটি ব্লকে (ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট-১, মহম্মদবাজার, নলহাটি-১ এবং মুরারই-১) মোট ১০টি সরকারি চেকগেট কার্যকর করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, পরিবহণ দফতর এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা যৌথভাবে এই গেটগুলিতে কাজ করছেন। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে চলছে আকস্মিক পরিদর্শন। বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়কে স্পট এনফোর্সমেন্ট অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে বৈধ চালান (MTDCL) বা ডিসিআর (DCR) ছাড়া কালো পাথর বহনকারী কোনও ডাম্পার ধরা পড়লে সরাসরি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজস্ব আদায়ের এই অভাবনীয় বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বিগত শাসকদলের নেতাদের মদতেই এতদিন পাথর খাদানগুলি থেকে কোটি কোটি টাকা লুঠ করা হতো এবং সেই টাকা দলীয় তহবিলে যেত। সেই তোলাবাজির রাস্তা বন্ধ হওয়াতেই এখন সরাসরি সরকারি কোষাগার ভরছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন কালো পাথরের বেআইনি কারবার ও রাজস্ব ফাঁকিতে বড়সড় রাশ টানা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধিতে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক নজির সৃষ্টি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *