নন্দীগ্রামবাসীর পাশে থাকার বার্তা, তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিলেও নিজের খাসতালুককে যে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ভোলেননি, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামে এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভায় যোগ দিয়ে একদিকে যেমন তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দেন, ঠিক তেমনই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। নন্দীগ্রামের মাটিকে নিজের ‘ভদ্রাসন’ উল্লেখ করে তিনি সাফ জানান, ভৌগোলিক দূরত্ব তৈরি হলেও এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ অপরিবর্তিত থাকবে।
পুরনো দিনের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঝড়-বৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ বা ঘন কুয়াশা— যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি অতীতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। ৭ জানুয়ারি, ১৪ মার্চ কিংবা ১০ নভেম্বরের মতো বিশেষ দিনগুলোতে তিনি নিয়ম করে ভাঙাবেড়া, সোনাচূড়া বা গোকুলনগরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর অফিস থেকে আগে যে ধরনের পরিষেবা ও সাহায্য সাধারণ মানুষ পেতেন, তা আগামী দিনেও একইভাবে জারি থাকবে।
তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি ও রাজ্য উন্নয়নের রূপরেখা
পূর্বতন সরকারের আমলে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর হওয়া নানা নির্যাতন ও মামলার প্রসঙ্গ টেনে সভায় অত্যন্ত কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে আইন হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের আসল জায়গা হবে জেল। ‘সব হিসাব হবে বন্ধু’— এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার কথাই তিনি ভুলে যাননি এবং আইনি পথেই তার যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের একটি খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, কৃষকদের ফসলের সঠিক দাম এবং মহিলাদের সুরক্ষাকে তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দেবে বলে জানান। পুলিশ প্রশাসনকে দলদাসের ভূমিকা ছেড়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় রাজ্যকে একটি নতুন গতিশীল যুগে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।