পোস্টার ছেঁড়া ঘিরে টিটাগড়ে তুমুল উত্তেজনা, পুলিশকর্মীর হাতের ট্যাটু দেখে ক্ষিপ্ত বিধায়ক কৌস্তভ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সংবলিত ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় টিটাগড় পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাটা গেট এলাকা। ঘটনাস্থলে খড়দহ থানার পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সেই সময়ই এক পুলিশকর্মীর হাতে ট্যাটু দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মীর হাতে কীভাবে ট্যাটু থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিটাগড় পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া ব্যানার ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পান বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত অনুগামীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। খবর পেয়ে সেখানে আসে খড়দহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে বিধায়ক ও বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। সেই সময়ই এক পুলিশ আধিকারিক বা কর্মীর হাতের ট্যাটু বিধায়কের নজরে আসে এবং তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীর দাবি, এলাকায় অকারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
পাল্টা অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক অশান্তির সমান্তরালে টিটাগড় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। স্থানীয় এক মার্বেল ঠিকাদার তথা বিজেপি কর্মী অজয় বাগ ‘কাটমানি’ দাবি এবং মারধরের অভিযোগে এই মামলা রুজু করেন। এই অভিযোগে আবার বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিধান রাও-সহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই আকস্মিক সংঘাতের জেরে শিল্পাঞ্চল টিটাগড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে ব্যানার বিতর্ক ও অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিধায়কের প্রশ্ন তোলার ঘটনাটি আগামী দিনে ওই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।