সুরক্ষিত বিনিয়োগে আকর্ষণীয় রিটার্ন, সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পে মিলছে ৮.২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ

নিরাপদ এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য সরকারি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলি সবসময়ই মধ্যবিত্ত ও প্রবীণ নাগরিকদের প্রথম পছন্দ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাজারচলতি অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় সরকারের এই প্রকল্পগুলি একদিকে যেমন ঝুঁকিমুক্ত, অন্যদিকে তেমনই অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুদের হারের সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক এবং কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে চালু করা প্রকল্পগুলিতে সুদের হার ৮ শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়কর ছাড়ের সুবিধা এবং নিশ্চিত রিটার্নের কারণে এই প্রকল্পগুলি এখন বিনিয়োগের সেরা মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সেরা রিটার্নের কয়েকটি সরকারি প্রকল্প
বর্তমানে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য তৈরি সিনিয়র সিটিজেন স্কিমে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়, যার মেয়াদ ৫ বছর। অন্যদিকে কন্যাসন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বছরে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি, সুরক্ষিত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট এবং কিষাণ বিকাশ পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ মিলছে, যার মেয়াদ ৫ বছর। অন্যদিকে কিষাণ বিকাশ পত্রে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ সুদের হারে প্রায় ১১৫ মাসে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ হওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে। এছাড়া ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে বেশি আয় করতে ইচ্ছুকদের জন্য রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া জারি করা আরবিআই ফ্লোটিং রেট বন্ড একটি চমৎকার বিকল্প, যেখানে বর্তমানে বার্ষিক ৮.০৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে।
কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সুদের হারের ওঠানামা এবং শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণেই মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পগুলির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। সরকারের এই আকর্ষণীয় সুদের হার বজায় রাখার মূল কারণ হলো নাগরিকদের সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নির্ভরতা যেমন বাড়বে, তেমনই কন্যাসন্তানদের উচ্চশিক্ষা বা বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবারগুলির ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে পুঞ্জীভূত এই অর্থ দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।