এবার কি বদলে যাবে বিয়ের নিয়ম? মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত এই রাজ্যে!

উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর এবার দেশের আরও একটি রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)। সোমবার আসাম বিধানসভায় এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পেশ করেছে রাজ্য সরকার। মূলত বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের জন্য একই আইন বলবৎ করাই এই বিধির মূল লক্ষ্য। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবারই বিধানসভায় এই বিলের ওপর ভোটাভুটি সম্পন্ন হতে পারে।
মহিলাদের সমানাধিকার ও বহুগামিতা নিষিদ্ধের কড়া বার্তা
আসাম সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন বিধিতে সামাজিক সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনের ফলে রাজ্যে বহুগামিতা বা একাধিক বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে চলেছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার আইনিভাবে নিশ্চিত করা হবে। নতুন নিয়মে লিভ-ইন সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো বিয়ে এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২.৪৫ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক লক্ষ্য ও দেশজুড়ে এর সম্ভাব্য প্রভাব
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা। জাতীয় স্তরে রাম মন্দির নির্মাণ এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর ইউসিসি কার্যকর করা বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসামে এই বিল পাস হলে তা দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলোকেও একই পথে হাঁটতে অনুপ্রাণিত করবে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশেও এই আইনের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আসামের প্রায় ৩৪.২২ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর এই আইনের প্রভাব এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার।