ঝুঁকি এড়াতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে লেকটাউনের ৭০ ফুটের মেসিমূর্তি!

ঝুঁকি এড়াতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে লেকটাউনের ৭০ ফুটের মেসিমূর্তি!

কলকাতার লেকটাউনে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উচ্চতার বিশালাকার মূর্তিটি নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তীব্র হাওয়ায় মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ। জননিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার রাতের মধ্যেই তড়িঘড়ি মূর্তিটি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঝুঁকির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন দমকল মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বসুর বিশেষ উদ্যোগে এবং শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্বে এই মেসিমূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। মেসির কলকাতা সফরের সময় স্বয়ং আর্জেন্টিনীয় তারকা ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেন। তবে বর্তমান পরিদর্শনে দেখা গেছে, মূর্তিটির নিচের অংশের মাটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং চারপাশের পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মূর্তির ঠিক নিচেই একটি জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বহু মানুষ ভিড় করে খেলা দেখেন। এই অবস্থায় কাঠামোটি ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি, উদ্বোধনের পর থেকেই মূর্তির অবয়বের সঙ্গে মেসির মুখের মিল না থাকা নিয়ে বিতর্ক ছিল।

রাজনীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

মূর্তিটি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, তৎকালীন পুর প্রশাসন ও মন্ত্রী অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এবং অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমান বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নজরেও বিষয়টি আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই কাঠামোটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বা ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *