মমতার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি মনে করালেন চাকরিহারা সুমন, শুভেন্দুর জনতার দরবারে আকুল আর্জি

বিপুল জনাদেশ নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এবং প্রত্যাশা পূরণে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লখনউ বা গোরক্ষপুরের আদলে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি দফতরে এই জনসংযোগ প্রক্রিয়া চলছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির দ্বিতীয় সোমবারেও সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ। আর সেখানেই নিজের ক্ষোভ ও অসহায়তার কথা তুলে ধরেন চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক সুমন বিশ্বাস।
পূর্বতন সরকারের ব্যর্থতা ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আর্জি
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস স্পষ্ট জানান, তাঁরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনও সংঘাতে যেতে চান না বা অহেতুক আন্দোলন করে প্রশাসনকে সমস্যায় ফেলতে চান না। তবে নিজেদের কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের হাতে সময় খুবই কম। মুখ্যমন্ত্রী যেন আমাদের দেখে একটু আস্থায় নেন।” এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করে সুমন মনে করিয়ে দেন, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রী যে মিথ্যে পরিকল্পনা ও ভাষণ দিয়েছিলেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী যেন সেই নেতাজি ইনডোরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে চাকরিহারাদের বাঁচার স্বপ্ন দেখান।
জনতার দরবারে জনজোয়ার ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ১০ দিনের মাথায় সাধারণ মানুষের কথা শোনার যে প্রতিশ্রুতি শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতেই প্রতি সোমবার এই ‘জনতার দরবার’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ দিন সকাল থেকেই সল্টলেকের দফতরে দাবিপত্র হাতে স্কুল শিক্ষক, নার্সসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ঢল নামে। ভিড়ের চাপ ও নিরাপত্তার স্বার্থে একপর্যায়ে দফতরের মূল ফটক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের মডেলে তৈরি এই জনতার দরবার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে নতুন সরকারের প্রশাসনিক সাফল্য। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতির শিকার হওয়া যোগ্য প্রার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়াটাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।