কাকলির ইস্তফার পরেই কল্যাণ-বাণ, বিধানসভা বিপর্যয়ের পর এবার চরমে তৃণমূলের অন্দরের কদর্য কোন্দল

কাকলির ইস্তফার পরেই কল্যাণ-বাণ, বিধানসভা বিপর্যয়ের পর এবার চরমে তৃণমূলের অন্দরের কদর্য কোন্দল

বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র কোন্দল এবার প্রকাশ্যে চলে এলো। কাকলি দলের পদ ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন লোকসভায় তৃণমূলের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে কাকলিকে নজিরবিহীন কটাক্ষ করে কল্যাণ লিখেছেন, “আপনার সামনের পথ মসৃণ ও আনন্দময় হোক। আপনার এবং আপনার পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা। সম্ভবত এখন, অবশেষে, আপনাকে ঘিরে থাকা সমস্ত কলঙ্ক এবং বিতর্ক চিরতরে মুছে যাবে।” কল্যাণের এই আক্রমণাত্মক পোস্ট দলের অন্দরের ফাটলকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

দলীয় ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ

সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপের পদ থেকে সরিয়ে সেই জায়গায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসানো হয়েছিল। এরপরই রবিবার বারাসাত জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন কাকলি। এই পদত্যাগের নেপথ্যে থাকা আসল কারণ নিয়ে মুখ খুলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা শুধু জেলা সভাপতিই নন, তৃণমূলের মহিলা মোর্চার পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। এমনকি তিনি সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর পুত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বৈদ্যনাথ দাবি করেছেন, সরকারের ভেতরের একের পর এক অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি তাঁদের পরিবারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে ছয়টিতেই তৃণমূল এবার পরাজিত হয়েছে। ফলে গত পাঁচ থেকে দশ বছর ধরে দলের ভেতরে যে লাগামহীন দুর্নীতি চলে আসছিল, তার বিরুদ্ধে নৈতিক দায়িত্ব নিতে এবং জোরালো প্রতিবাদ জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

চার বারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো একসময়ের বিশ্বস্ত ও শীর্ষ সারির নেত্রীর পরিবারের তরফ থেকে সরাসরি সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তার ওপর কল্যাণের পাল্টা ‘কলঙ্ক’ ও ‘ব্যর্থতা’র কটাক্ষ তৃণমূলের অস্বস্তি চরমে তুলেছে। বিধানসভা বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই দলের এই শীর্ষ স্তরের কদর্য কোন্দল আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিকে বড়সড় সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *