অভিষেকের শান্তিনিকেতনে কলকাতা পুলিশ, সময় চাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড়

অভিষেকের শান্তিনিকেতনে কলকাতা পুলিশ, সময় চাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড়

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দলের আকস্মিক পরিদর্শনে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) পক্ষ থেকে পাঠানো একটি নোটিশের পর পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি নোটিশের জবাব দিয়ে সময় চাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই আগমন ঘটনাটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ও আইনি নোটিশ

সূত্রের খবর, ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের এই বাসভবনের একটি অংশে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভা ওই অবৈধ অংশটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি আইনি নোটিশ পাঠায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পুরসভার সেই নোটিশ ও নির্দেশের পরিপ্রক্ষিতেই আজ শান্তিনিকেতনে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল এবং সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।

সময় চাওয়ার পরেই তৎপরতা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকালই এক নতুন মোড় আসে। জানা গেছে, কলকাতা পুরসভার নোটিশের জবাবে গতকালই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে পাল্টা একটি চিঠি পাঠানো হয় পুর কর্তৃপক্ষকে। সেই চিঠিতে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করার জন্য আরও দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন সময় চেয়েছেন সাংসদ। কিন্তু সময় চাওয়ার এই আবেদন বিবেচনার মাঝেই, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের এই আচমকা পরিদর্শনে নানা মহলে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। এটি কেবলই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার সাধারণ প্রক্রিয়া, নাকি এর পেছনে পুরসভার কোনো সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট বা আদালতের নির্দেশ রয়েছে, তা এখনও কুয়াশাচ্ছন্ন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক আবহে তৃণমূলের শীর্ষস্তরের এই হাই-প্রোফাইল নেতার বাড়িতে পুলিশের পা রাখা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যার ওপর কড়া নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *