বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য, জরায়ুমুখ ক্যানসার রুখতে ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে মেগা অভিযান

বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য, জরায়ুমুখ ক্যানসার রুখতে ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে মেগা অভিযান

বিশ্বজুড়ে মহিলাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার। এই মারণরোগের সংক্রমণ রুখতে এবার বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৩০ মে থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। বিধাননগর সাব-ডিভিশন হাসপাতাল থেকে এই বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যে ৭ লক্ষেরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে মৃত্যু হয় প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মহিলার। চিকিৎসকদের মতে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের ‘টাইপ ১৬’ এবং ‘টাইপ ১৮’ এই ক্যানসারের জন্য মূলত দায়ী। সঠিক সময়ে এই ভাইরাসের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে মারণরোগের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

কবে এবং কারা পাবেন এই টিকা

এই বিশেষ স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় মূলত ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হবে। টিকাকরণ প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আগামী জুন মাসজুড়ে বিভিন্ন স্কুলে সমীক্ষা ও প্রাপকদের তালিকা তৈরির কাজ চলবে। এরপর জুলাই মাস থেকে মূল টিকাকরণ পর্ব শুরু হবে এবং যারা কোনো কারণে বাদ পড়বেন, তাদের জন্য আগস্ট মাসে আয়োজন করা হবে বিশেষ মপ-আপ ক্যাম্পেইন। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইউ-উইন’ (U-Win) পোর্টালের মাধ্যমেও এই টিকার জন্য নাম নথিভুক্ত করা যাবে।

টিকার কার্যকারিতা ও সচেতনতা

এই অভিযানে ‘গার্ডাসিল-৪’ নামের একটি উন্নত কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হবে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে তা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তবে সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলো অবহেলা করার কারণে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান। এই ব্যাপক টিকাকরণ কর্মসূচি রাজ্যে মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অকালমৃত্যুর হার অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *