বুলডোজার চলতেই বেলেঘাটায় গণবিক্ষোভ, তৃণমূল নেতার অফিসে ভাঙচুর ও মারধর!

রবিবারের বুলডোজার অ্যাকশনের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সাতসকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বেলেঘাটায়। বেআইনি নির্মাণকাণ্ডে নাম জড়ানো স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের অফিসের সামনে আছড়ে পড়ল প্রতারিত বাসিন্দাদের ক্ষোভ। উত্তেজিত জনতা রাজুর অফিসে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ওই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে, রাজু নস্করের আরও দু’টি বহুতলে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) পক্ষ থেকে নোটিস ঝোলানোয় গোটা এলাকায় নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
প্রতারণার শিকার মধ্যবিত্তের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজু নস্করের ওপর ভরসা করে সারা জীবনের সমস্ত পুঁজি ঢেলে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে তাঁরা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও কোনও বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। রবিবার পুরসভার বুলডোজার চলতেই সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়। টাকা ও মাথার ছাদ— দুই-ই হারানোর আশঙ্কায় সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ‘টাকা দিলাম, কাগজ কোথায়?’ এই দাবিতে রাজুর অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেআইনি নির্মাণের কারণে মাথার ছাদ হারানোর এই আশঙ্কা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তাই মূলত সাধারণ মানুষকে এই চরম পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
জমি দিয়েও বিপাকে অসহায় বৃদ্ধারা
রাজুর বেআইনি সাম্রাজ্যের জাল যে কতটা গভীরে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সোমবার কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ৫-এর এ ইস্ট কুলিয়া রোডের আরও দু’টি বহুতলে গিয়ে ভাঙার নোটিস সেঁটে দিয়ে আসেন। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দু’টি টাওয়ারে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার সবক’টিই নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই নোটিস ঝুলতেই আবাসন দু’টিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ফ্ল্যাটগুলি যে দুই বৃদ্ধার জমির ওপর তৈরি হয়েছিল, নিজেদের জমি দিয়ে আজ তাঁরাই সবথেকে বড় বিপদের মুখে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর হার্টের রোগী এবং অন্যজন স্বামীহারা অসহায় বৃদ্ধা। ঘর ভাঙার নোটিস হাতে পেয়ে এই বয়সে মাথার ছাদ হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
রবিবার রাজু নস্করের দুটি বড়সড় বেআইনি নির্মাণে পুরসভার বুলডোজার চলার পর, চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের নতুন নোটিস এবং গণবিক্ষোভের জেরে আপাতত উত্তপ্ত বেলেঘাটা। আইনের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বর্তমানে বেপাত্তা হলেও, তাঁর এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মধ্যবিত্ত ফ্ল্যাট মালিকদের। ঘটনার জেরে একদিকে যেমন ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।