জ্বালানির আগুনে পুড়ছে পকেট, দুই সপ্তাহে চারবার দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস!

জ্বালানির আগুনে পুড়ছে পকেট, দুই সপ্তাহে চারবার দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস!

লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের পকেট খালি হওয়ার জোগাড়। বিশ্ব বাজারে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের কারণে দেশে আবারও বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। আজ, ২৫ মে সকালে নতুন করে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ টাকা ৭১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিগত মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার জ্বালানির দাম বাড়ল, যার ফলে গত ১১ দিনে সাধারণ মানুষকে পেট্রোল-ডিজেলে লিটার প্রতি অতিরিক্ত প্রায় ৮ টাকা করে বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

১০০-র গণ্ডি আগেই পার হয়েছিল, নতুন এই ধাক্কায় কলকাতায় এখন এক লিটার পেট্রোল কিনতে খরচ হবে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ১০২ টাকা ১২ পয়সা এবং ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। এর আগে গত ২৩ মে-ও জ্বালানির দাম একদফা বাড়ানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও সরবরাহ সঙ্কট

এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি, যার প্রভাবে বিশ্ব জুড়ে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত ক্রুড তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্ব বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। এতদিন অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি চড়া দামে ক্রুড তেল কিনলেও দেশের বাজারে দাম বাড়ায়নি। এর ফলে সংস্থাগুলিকে প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার বিপুল লোকসান গুনতে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজারদরে মারাত্মক প্রভাবের আশঙ্কা

পেট্রোল ও ডিজেলের এই লাগাতার দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিত্যযাত্রীদের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। একই সাথে পণ্যবাহী গাড়িগুলির পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজি থেকে শুরু করে সমস্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাজারে দুধ ও পাউরুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে আরও বড়ো আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *