পঞ্চায়েত অফিস নাকি প্রমোদকানন, গ্রেফতার তৃণমূল প্রধান!

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে সরকারি দফতরকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ আট বছর আগের একটি পরিচারিকা নিগ্রহের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিজন বন্ধু বাগকে। কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেফতারের পর পটাশপুর থানা পুলিশ সোমবার কাঁথি মহকুমা আদালতে পেশ করে। তবে এই গ্রেফতারির সূত্র ধরে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তল্লাশি চালাতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। সরকারি দফতরের ভেতরে যে ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের হদিস মিলেছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দফতরে খাট-বিছানা ও জুয়ার আসর
তদন্তে নেমে সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তল্লাশি চালাতেই রীতিমতো থ বনে যান তদন্তকারীরা। পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছিল বিলাসবহুল গোপন আস্তানা। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে খাট, বিছানা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), মহিলাদের শাড়ি এবং কন্ডোম। শুধু তাই নয়, সরকারি অফিসের অন্দরেই বসত জুয়ার আসর, যার প্রমাণ হিসেবে উদ্ধার হয়েছে জুয়ার বোর্ড। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষের সরকারি রেশন কার্ড। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে অপরাধের আখড়া বানিয়ে তোলা হয়েছিল, এই ঘটনা তারই প্রমাণ দিচ্ছে।
তীব্র অস্বস্তিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক পারদ
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জেরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সরকারি দফতরে বসে এই ধরনের অনৈতিক কাজ এবং শত শত রেশন কার্ড হাতিয়ে রাখার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পটাশপুর থানা। ঘটনার গভীরে পৌঁছতে এবং এই চক্রে আরও কারা জড়িত তা জানতে ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সমগ্ৰ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ।