ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে কিউবায় ১৫ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠাল চিন, চরম সংকটে পাশে বেজিং

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র জাঁতাকলে পড়ে চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটে ভুগছে কিউবা। কমিউনিস্ট শাসিত এই দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ওয়াশিংটন একের পর এক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যসংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই গুরুতর মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে কিউবার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বেজিং। আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে প্রথম দফায় ১৫ হাজার টন খাদ্যশস্য কিউবায় পাঠাল চিন।
সংকটের কারণ ও মার্কিন কৌশল
কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসন দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। এর ফলে কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য অনটন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে কিউবাকে কাবু করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। এমনকি ভেনেজুয়েলার আদলে সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বা বিপ্লবী নেতা রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে মার্কিন বিচারবিভাগ।
চিনা সাহায্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে কিউবাকে রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল চিন। চিনের সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা মোট ৬০ হাজার টন খাদ্যশস্যের মধ্যে প্রথম দফার ১৫ হাজার টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ ইতিমধ্যেই হাভানা বন্দরে পৌঁছেছে। এই খাদ্য সহায়তার ফলে দেশটির প্রায় ৯৬ লক্ষ মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হবে। আগামী দিনে আরও ৪৫ হাজার টন খাদ্যসামগ্রী দফায় দফায় পাঠানো হবে বলে বেজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে। চিনের এই বিপুল পরিমাণ সাহায্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার একাধিপত্যের নীতিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল। একই সঙ্গে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে চিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।