গেরুয়া সুনামিতে টলমল পুরবোর্ড, মাটি কামড়ে পড়ে থাকার বার্তা দিতে শহরতলির প্রতিনিধিদের কালীঘাটে ডাকলেন মমতা

গেরুয়া সুনামিতে টলমল পুরবোর্ড, মাটি কামড়ে পড়ে থাকার বার্তা দিতে শহরতলির প্রতিনিধিদের কালীঘাটে ডাকলেন মমতা

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা কাটিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ালেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যে যে ‘গেরুয়া সুনামি’ দেখা দিয়েছে, তাতে শাসকদলের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হচ্ছে। একের পর এক পুরসভা থেকে পুরপ্রতিনিধিদের ইস্তফা এবং বোর্ড ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে রীতিমতো অশনি সংকেত তৈরি করেছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরনিগমের পর এবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে উত্তর শহরতলির চার গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা ও বিধাননগর পুরনিগম। আজ, সোমবার বিকেলেই কালীঘাটের বাসভবনে এই পুরসভাগুলির মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি সাংগঠনিক ও পর্যালোচনা বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দলীয় কোন্দল ও পুরবোর্ড বাঁচানোর তাগিদ

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এই কঠিন সময়ে পুরভোটের বৈতরণী পার হওয়া এবং বর্তমান বোর্ডগুলি ধরে রাখাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। গত সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জনসংযোগ বাড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। এবার তাঁর নজর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ— দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের দিকে। রবিবারই এই পুরসভাগুলির প্রত্যেক দলীয় পদাধিকারীকে কালীঘাটের বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। একের পর এক পুরবোর্ড হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জনসংযোগ জোরদার ও পরিষেবায় গতি আনার কৌশল

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং জনসংযোগের অভাব। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলা পরিষদের পদাধিকারীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। প্রতিটি বৈঠক থেকেই তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল— ভয়মুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে হবে। সোমবারের বৈঠকেও শহরতলির পুরপ্রতিনিধিদের প্রতি নেত্রীর একই নির্দেশ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুর আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইতিমধ্যেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচিত বোর্ড চাইলেই ভেঙে দেওয়া যায় না, তা কেবল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই পরিবর্তন সম্ভব। ফলে আইনি ও রাজনৈতিক— দুই পথেই লড়াইয়ের জন্য দলের কাউন্সিলরদের মানসিক প্রস্তুতি বাড়াতে এবং পুরপরিষেবার ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *