প্রথম বিদেশ সফরে চিনে যাচ্ছেন তারেক রহমান, বদলাচ্ছে ঢাকার কূটনৈতিক সমীকরণ!

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হতে পারে চিনে। জুনের শেষে চিনে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ঢাকা এখনো এই সফরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সফরের জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে।
কূটনৈতিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীদের প্রথম বিদেশ সফর সবসময়ই একটি কৌশলগত কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। বিগত ২০২৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে বেছে নিয়েছিলেন। এমনকি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভারত সফর করেছিলেন। তবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চিনকে বেছে নেওয়ার এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সহযোগিতার নতুন দিগন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহত রয়েছে। মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশের বর্তমান বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে বেইজিং সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশই ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এগিয়ে নিতে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর চিনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তারেক রহমান সঠিক সময়ে চিন সফর করবেন। প্রস্তাবিত এই সফরে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। এই সফরের ফলে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের ওপর চিনের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।